শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬
তিন মাসে প্রবৃদ্ধি ৬.৩৪ শতাংশ

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ

রফতানি আয় বেড়েছে সেপ্টেম্বরে


তৈরি পোশাকের রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোর ধারায় সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। মাসটিতে ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে আয় হয়েছিল ৩৬২ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। তবে আগস্টের তুলনায় এক মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে তিন মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাত। প্রথম প্রান্তিকে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৯৭ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে একক মাসে পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ৩০৮ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।
পোশাকের দুই প্রধান অংশের মধ্যে নিটওয়্যারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তিন মাসে এ খাত থেকে আয় এসেছে ৫৯৬ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ওভেন পোশাকে আয় হয়েছে ৪৬১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১১ শতাংশ।
ইপিবির তথ্য মতে, পোশাকের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণেরও কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যে ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং হোম টেক্সটাইলে ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরেও এসব খাতের কয়েকটিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চামড়ায় ২০ দশমিক ১৯ শতাংশ, পাটে ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ, হোম টেক্সটাইলে ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ওষুধে ৬৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে। তবে কৃষিপণ্য এবং হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি কমেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাজারভিত্তিক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম তিন মাসে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। দেশটিতে আয় হয়েছে ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। যুক্তরাজ্যে ১৩৭ কোটি ২ লাখ এবং জার্মানিতে ১২১ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পণ্য গেছে।
উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে রফতানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দেশটিতে রপ্তানি ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারে উঠেছে। ইপিবি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার প্রতিফলন এ প্রবৃদ্ধি।

এম/এ

Link copied!