অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউত ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বকে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তার অভিযোগ, এই বিক্ষোভের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিক্ষোভ ও ধরপাকড়ের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কঙ্গনা বলেন, দেখুন, মানুষ এখন কীভাবে এই দেশবিরোধী শক্তিগুলোকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছে। পুলিশকে বাদই দিন, এখন সাধারণ মানুষও তাদের ধরবে এবং জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে। কারণ, মানুষ তাদের চিনতে শুরু করেছে।
কঙ্গনা আরও বলেন, দেশকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন শক্তি কাজ করছে। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে হবে, যাতে সাধারণ নাগরিকদের কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
লখনৌতে পৌঁছে অযোধ্যায় যাওয়ার পথে কঙ্গনা এসব মন্তব্য করেন। তিনি জানান, রামলালার দর্শন ও প্রার্থনার জন্য অযোধ্যার রামমন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। কঙ্গনা হিমাচল প্রদেশের মান্ডি আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, সংশোধনের নামে অনেক ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা পুরো প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের সমাবেশের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে বিক্ষোভকারীরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই দলটির শীর্ষ নেতাদের আটক করে পুলিশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার দিল্লিজুড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। অন্য একটি হিসাবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকেই পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও রাজনীতিকদের পাশাপাশি চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন।
