মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

৬১-তে পা দিলেন বলিউড বাদশাহ, শূন্য থেকে যেভাবে করেছেন বিশ্বজয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

৬১-তে পা দিলেন বলিউড বাদশাহ, শূন্য থেকে যেভাবে করেছেন বিশ্বজয়

বলিউডের বাদশাহ, রোমান্সের রাজা কিংবা কোটি ভক্তের স্বপ্নের নায়ক—যে নামেই ডাকা হোক, তিনি শাহরুখ খান। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের রাজত্ব ধরে রেখেছেন কিং খান। রোমান্টিক নায়ক থেকে অ্যাকশন সুপারস্টার, খলনায়ক থেকে ভিন্নধর্মী চরিত্র—সবখানেই নিজের অভিনয়দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।

আজ ২ নভেম্বর, ৬১ বছরে পা রাখলেন বলিউডের এই মহাতারকা। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তার জীবন, সংগ্রাম, সাফল্য ও সিনেমার জগতে দীর্ঘ পথচলার গল্প।

দিল্লির সাধারণ পরিবার থেকে বলিউডের বাদশাহ

১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে জন্ম শাহরুখ খানের। বাবা তাজ মোহাম্মদ খান এবং মা লতিফ ফাতিমার সন্তান শাহরুখের শৈশব কেটেছে দিল্লিতেই। পড়াশোনা করেছেন দিল্লির হংসরাজ কলেজে। পরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহের কারণে তা শেষ করেননি।

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল তার। দিল্লিতে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন এবং প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ব্যারি জনের কাছে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর আশির দশকের শেষ দিকে টেলিভিশনে অভিনয়ের মাধ্যমে বিনোদনজগতে যাত্রা শুরু করেন।

১৯৮৮ সালে টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ফৌজি’তে অভিনয় করে প্রথম পরিচিতি পান শাহরুখ। এরপর ‘সার্কাস’সহ বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন। টেলিভিশনের সেই পরিচিতিই একসময় তাকে বলিউডের দরজা খুলে দেয়।

খলনায়ক হয়ে অভিষেক, তারপর রোমান্টিক নায়ক

১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় শাহরুখের। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়ার পাশাপাশি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা নবাগত অভিনেতার স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি।

তবে ক্যারিয়ারের শুরুতেই প্রচলিত নায়কের চরিত্রে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। ‘বাজিগর’, ‘ডর’ ও ‘আঞ্জাম’-এর মতো সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে প্রমাণ করেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতেও তিনি পিছপা নন। বিশেষ করে ‘বাজিগর’ ও ‘ডর’ তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।

১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কাজলকে সঙ্গে নিয়ে অভিনীত এই সিনেমা শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়েও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। রাজ মালহোত্রা চরিত্রে শাহরুখ হয়ে ওঠেন কোটি তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। সিনেমাটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে চলা ছবির মর্যাদা পেয়েছে।

এরপর ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ এবং ‘কাভি খুশি কাভি গম’-এর মতো সিনেমা তাকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

অভিনয়ের বৈচিত্র্যে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া

শাহরুখের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ চরিত্র নির্বাচনে বৈচিত্র্য। শুধু প্রেমের গল্পে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘দেবদাস’ সিনেমায় প্রেমে ব্যর্থ এক মানুষের যন্ত্রণা, ‘স্বদেশ’-এ দেশপ্রেমিক বিজ্ঞানী, ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’তে হকি দলের কোচ এবং ‘মাই নেম ইজ খান’-এ ভিন্নধর্মী এক চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

বিশেষ করে ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’ সিনেমায় কবির খান চরিত্রটি তার অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে ‘স্বদেশ’ ও ‘মাই নেম ইজ খান’ প্রমাণ করে, বাণিজ্যিক সিনেমার বাইরেও অভিনয়ের গভীরতা তুলে ধরতে সক্ষম শাহরুখ।

অ্যাকশন ঘরানাতেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন ‘ডন’, ‘ডন ২’, ‘রাওয়ান’ ও ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে।

বিরতি, সমালোচনা এবং দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

একসময় শাহরুখের ক্যারিয়ারে কিছুটা ছন্দপতন দেখা যায়। ‘জাব হ্যারি মেট সাজাল’ ও ‘জিরো’র মতো সিনেমা প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ২০১৮ সালের পর কয়েক বছর বড় পর্দায় প্রধান চরিত্রে তাকে নিয়মিত দেখা যায়নি। তবে এই বিরতিও তার জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেনি।

২০২৩ সালে ‘পাঠান’ সিনেমা দিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন শাহরুখ। সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী বিপুল ব্যবসা করে এবং বক্স অফিসে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘জওয়ান’ তার সাফল্যের ধারাকে আরও এগিয়ে নেয়। অ্যাকশন, আবেগ ও সামাজিক বার্তার সমন্বয়ে তৈরি সিনেমাটি দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পায়।

এরপর ‘ডানকি’ সিনেমায় ভিন্নধর্মী গল্পে অভিনয় করেন তিনি। তিনটি সিনেমার মাধ্যমে ২০২৩ সালকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল বছরে পরিণত করেন এই অভিনেতা।

পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন শাহরুখ খান। ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে তিনি বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা। ২০০৫ সালে ভারত সরকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পান তিনি।

এ ছাড়া ফ্রান্স সরকারের কাছ থেকে ২০০৭ সালে ‘অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ এবং ২০১৪ সালে ‘লেজিওঁ দ্য অনার’ সম্মাননা লাভ করেন। ২০২৫ সালে ‘জওয়ান’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা বিভাগে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন।

শুধু ভারতেই নয়, এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে তার বিশাল ভক্তগোষ্ঠী। ভারতীয় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।

অভিনেতার বাইরেও সফল ব্যবসায়ী

শাহরুখের পরিচয় কেবল অভিনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০০২ সালে স্ত্রী গৌরী খানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র প্রযোজনার পাশাপাশি ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস নিয়েও কাজ করে।

ক্রিকেটের প্রতিও রয়েছে তার বিশেষ আগ্রহ। অভিনেত্রী জুহি চাওলা ও তার স্বামী জয় মেহতার সঙ্গে যৌথভাবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিকানায় যুক্ত তিনি। দলটি তিনবার আইপিএল শিরোপা জিতেছে।

ব্যক্তিজীবনে ১৯৯১ সালে গৌরী খানকে বিয়ে করেন শাহরুখ। তাদের সংসারে রয়েছে তিন সন্তান—আরিয়ান, সুহানা ও আব্রাম। ব্যস্ত পেশাগত জীবনের পাশাপাশি পরিবারকেও বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন তিনি।

৬১-তে এসেও নতুন চমক

বয়স বাড়লেও শাহরুখের তারুণ্য ও কাজের প্রতি আগ্রহে ভাটা পড়েনি। জন্মদিনেও ভক্তদের জন্য রয়েছে বিশেষ উপহার। তার আসন্ন সিনেমা ‘কিং’-এর প্রথম গান প্রকাশিত হয়েছে আজ তার জন্মদিনেই। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত সিনেমাটিতে শাহরুখের সঙ্গে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন ও তার মেয়ে সুহানা খানসহ আরও অনেকে। ছবিটি চলতি বছরের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তির কথা রয়েছে।

শাহরুখ মানেই এক অনুপ্রেরণার নাম

দিল্লির এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার গল্প শাহরুখ খানের। জীবনে নানা বাধা, ব্যর্থতা ও সমালোচনা এসেছে। কিন্তু প্রতিবারই নতুন উদ্যমে ফিরে এসেছেন তিনি। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, পরিশ্রম ও দর্শকদের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক—সব মিলিয়ে তৈরি করেছেন নিজের আলাদা সাম্রাজ্য।

তার সিনেমার সংলাপ, রোমান্টিক ভঙ্গি কিংবা দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়ানোর বিখ্যাত স্টাইল—সবকিছুই এখন জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ। তাই শাহরুখ খান শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি একাধিক প্রজন্মের আবেগের নাম।বলিউডের বাদশাহ, রোমান্সের রাজা কিংবা কোটি ভক্তের স্বপ্নের নায়ক—যে নামেই ডাকা হোক, তিনি শাহরুখ খান। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের রাজত্ব ধরে রেখেছেন কিং খান। রোমান্টিক নায়ক থেকে অ্যাকশন সুপারস্টার, খলনায়ক থেকে ভিন্নধর্মী চরিত্র—সবখানেই নিজের অভিনয়দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।

আজ ২ নভেম্বর, ৬১ বছরে পা রাখলেন বলিউডের এই মহাতারকা। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তার জীবন, সংগ্রাম, সাফল্য ও সিনেমার জগতে দীর্ঘ পথচলার গল্প।

দিল্লির সাধারণ পরিবার থেকে বলিউডের বাদশাহ

১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে জন্ম শাহরুখ খানের। বাবা তাজ মোহাম্মদ খান এবং মা লতিফ ফাতিমার সন্তান শাহরুখের শৈশব কেটেছে দিল্লিতেই। পড়াশোনা করেছেন দিল্লির হংসরাজ কলেজে। পরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহের কারণে তা শেষ করেননি।

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল তার। দিল্লিতে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন এবং প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ব্যারি জনের কাছে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর আশির দশকের শেষ দিকে টেলিভিশনে অভিনয়ের মাধ্যমে বিনোদনজগতে যাত্রা শুরু করেন।

১৯৮৮ সালে টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ফৌজি’তে অভিনয় করে প্রথম পরিচিতি পান শাহরুখ। এরপর ‘সার্কাস’সহ বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন। টেলিভিশনের সেই পরিচিতিই একসময় তাকে বলিউডের দরজা খুলে দেয়।

খলনায়ক হয়ে অভিষেক, তারপর রোমান্টিক নায়ক

১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় শাহরুখের। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়ার পাশাপাশি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা নবাগত অভিনেতার স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি।

তবে ক্যারিয়ারের শুরুতেই প্রচলিত নায়কের চরিত্রে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। ‘বাজিগর’, ‘ডর’ ও ‘আঞ্জাম’-এর মতো সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে প্রমাণ করেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতেও তিনি পিছপা নন। বিশেষ করে ‘বাজিগর’ ও ‘ডর’ তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।

১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কাজলকে সঙ্গে নিয়ে অভিনীত এই সিনেমা শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়েও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। রাজ মালহোত্রা চরিত্রে শাহরুখ হয়ে ওঠেন কোটি তরুণীর স্বপ্নের নায়ক। সিনেমাটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে চলা ছবির মর্যাদা পেয়েছে।

এরপর ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ এবং ‘কাভি খুশি কাভি গম’-এর মতো সিনেমা তাকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

অভিনয়ের বৈচিত্র্যে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া

শাহরুখের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ চরিত্র নির্বাচনে বৈচিত্র্য। শুধু প্রেমের গল্পে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘দেবদাস’ সিনেমায় প্রেমে ব্যর্থ এক মানুষের যন্ত্রণা, ‘স্বদেশ’-এ দেশপ্রেমিক বিজ্ঞানী, ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’তে হকি দলের কোচ এবং ‘মাই নেম ইজ খান’-এ ভিন্নধর্মী এক চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

বিশেষ করে ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’ সিনেমায় কবির খান চরিত্রটি তার অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে ‘স্বদেশ’ ও ‘মাই নেম ইজ খান’ প্রমাণ করে, বাণিজ্যিক সিনেমার বাইরেও অভিনয়ের গভীরতা তুলে ধরতে সক্ষম শাহরুখ।

অ্যাকশন ঘরানাতেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন ‘ডন’, ‘ডন ২’, ‘রাওয়ান’ ও ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে।

বিরতি, সমালোচনা এবং দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

একসময় শাহরুখের ক্যারিয়ারে কিছুটা ছন্দপতন দেখা যায়। ‘জাব হ্যারি মেট সাজাল’ ও ‘জিরো’র মতো সিনেমা প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ২০১৮ সালের পর কয়েক বছর বড় পর্দায় প্রধান চরিত্রে তাকে নিয়মিত দেখা যায়নি। তবে এই বিরতিও তার জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেনি।

২০২৩ সালে ‘পাঠান’ সিনেমা দিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন শাহরুখ। সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী বিপুল ব্যবসা করে এবং বক্স অফিসে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘জওয়ান’ তার সাফল্যের ধারাকে আরও এগিয়ে নেয়। অ্যাকশন, আবেগ ও সামাজিক বার্তার সমন্বয়ে তৈরি সিনেমাটি দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পায়।

এরপর ‘ডানকি’ সিনেমায় ভিন্নধর্মী গল্পে অভিনয় করেন তিনি। তিনটি সিনেমার মাধ্যমে ২০২৩ সালকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল বছরে পরিণত করেন এই অভিনেতা।

পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন শাহরুখ খান। ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে তিনি বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা। ২০০৫ সালে ভারত সরকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পান তিনি।

এ ছাড়া ফ্রান্স সরকারের কাছ থেকে ২০০৭ সালে ‘অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ এবং ২০১৪ সালে ‘লেজিওঁ দ্য অনার’ সম্মাননা লাভ করেন। ২০২৫ সালে ‘জওয়ান’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা বিভাগে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন।

শুধু ভারতেই নয়, এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে তার বিশাল ভক্তগোষ্ঠী। ভারতীয় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।

অভিনেতার বাইরেও সফল ব্যবসায়ী

শাহরুখের পরিচয় কেবল অভিনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০০২ সালে স্ত্রী গৌরী খানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র প্রযোজনার পাশাপাশি ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস নিয়েও কাজ করে।

ক্রিকেটের প্রতিও রয়েছে তার বিশেষ আগ্রহ। অভিনেত্রী জুহি চাওলা ও তার স্বামী জয় মেহতার সঙ্গে যৌথভাবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিকানায় যুক্ত তিনি। দলটি তিনবার আইপিএল শিরোপা জিতেছে।

ব্যক্তিজীবনে ১৯৯১ সালে গৌরী খানকে বিয়ে করেন শাহরুখ। তাদের সংসারে রয়েছে তিন সন্তান—আরিয়ান, সুহানা ও আব্রাম। ব্যস্ত পেশাগত জীবনের পাশাপাশি পরিবারকেও বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন তিনি।

৬১-তে এসেও নতুন চমক

বয়স বাড়লেও শাহরুখের তারুণ্য ও কাজের প্রতি আগ্রহে ভাটা পড়েনি। জন্মদিনেও ভক্তদের জন্য রয়েছে বিশেষ উপহার। তার আসন্ন সিনেমা ‘কিং’-এর প্রথম গান প্রকাশিত হয়েছে আজ তার জন্মদিনেই। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত সিনেমাটিতে শাহরুখের সঙ্গে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন ও তার মেয়ে সুহানা খানসহ আরও অনেকে। ছবিটি চলতি বছরের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তির কথা রয়েছে।

শাহরুখ মানেই এক অনুপ্রেরণার নাম

দিল্লির এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার গল্প শাহরুখ খানের। জীবনে নানা বাধা, ব্যর্থতা ও সমালোচনা এসেছে। কিন্তু প্রতিবারই নতুন উদ্যমে ফিরে এসেছেন তিনি। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, পরিশ্রম ও দর্শকদের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক—সব মিলিয়ে তৈরি করেছেন নিজের আলাদা সাম্রাজ্য।

তার সিনেমার সংলাপ, রোমান্টিক ভঙ্গি কিংবা দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়ানোর বিখ্যাত স্টাইল—সবকিছুই এখন জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ। তাই শাহরুখ খান শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি একাধিক প্রজন্মের আবেগের নাম।

এম/আর

Link copied!