কিডনি মূলত রক্ত ফিল্টার করার এবং শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললে বিকল বা অকার্যকর হয়ে পড়ে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় কিডনি বিকল হওয়াকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়: অ্যাকিউট বা তীব্র কিডনি ইনজুরি (যা হঠাৎ ঘটে) এবং ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (যা ধীরে ধীরে বিকশিত হয়)।
কিডনি বিকল হওয়ার প্রধান কারণগুলোকে নিচে কয়েকটি ভাগে আলোচনা করা হলো:
১. প্রধান শারীরিক অসুস্থতা (সবচেয়ে সাধারণ কারণ)
- ডায়াবেটিস: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। রক্তে অতিরিক্ত শর্করা বা সুগার দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে তা কিডনির ভেতরের ক্ষুদ্র রক্তনালি ও ফিল্টারগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
- উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure): অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনির রক্তনালিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে রক্তনালিগুলো সংকুচিত বা শক্ত হয়ে যায় এবং কিডনি সঠিকভাবে রক্ত পরিশ্রুত করতে পারে না।গ্লোমেরুলোনফ্রাইটিস: এটি কিডনির ভেতরের ফিল্টারিং ইউনিট বা ছাঁকনিগুলোর এক ধরণের প্রদাহ। এর ফলে প্রস্রাবের সাথে অতিরিক্ত প্রোটিন বা রক্ত বের হয়ে যেতে পারে এবং ধীরে ধীরে কিডনি অকেজো হয়।
২. ওষুধ ও দৈনিক বদভ্যাস
- ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন বা দীর্ঘমেয়াদে ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন: আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন বা ডাইক্লোফেনাক) সেবন করলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং কিডনি কার্যক্ষমতা হারায়। [1, 2]
- পর্যাপ্ত পানি পান না করা: দীর্ঘ সময় ধরে কম পানি পানের অভ্যাস শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে। এর ফলে কিডনিতে পাথর বা ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, যা পরে কিডনি বিকলের কারণ হতে পারে।
- ধূমপান ও অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ: ধূমপানের কারণে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। অন্যদিকে খাবারে অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তচাপ বেড়ে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
৩. অন্যান্য রোগ ও বংশগত কারণ
- পলিসিস্টিক কিডনি রোগ (PKD): এটি একটি বংশগত বা জিনগত রোগ। এতে কিডনির ভেতরে অসংখ্য তরলপূর্ণ সিস্ট বা থলি তৈরি হয়, যা সময়ের সাথে সাথে কিডনিকে বড় করে ফেলে এবং এর স্বাভাবিক টিস্যু নষ্ট করে দেয়।
- অটোইমিউন রোগ: যেমন লুপাস (Lupus বা SLE), যেখানে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত কিডনির সুস্থ কোষগুলোকে আক্রমণ করে বসে।
- প্রস্রাবের রাস্তায় বাধা: কিডনিতে বড় পাথর, টিউমার বা পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কিডনিতে চাপ পড়ে এবং তা বিকল হতে পারে।
এছাড়াও হঠাৎ কোনো বড় দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, মারাত্মক ইনফেকশন (সেপসিস) কিংবা কোনো বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শে এলে কিডনি হঠাৎ বা অ্যাকিউটভাবে বিকল হয়ে যেতে পারে।
আপনি কি নিজের বা পরিচিত কারও কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ (যেমন পা ফোলা বা প্রস্রাবের পরিবর্তন) লক্ষ্য করছেন, নাকি সাধারণ সচেতনতার জন্য এটি জানতে চাচ্ছেন? জানালে আপনাকে আরও সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিতে পারতাম।
