ডায়াবেটিস রোগীরা প্রায়শই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যতালিকা থেকে ভাত বা রুটির মতো প্রধান খাবার বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, কেবল ভাত খাওয়া কমিয়ে দিলেই রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে আসে না। কারণ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কেবল একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর করে না, বরং পুরো খাবারের ধরন এবং খাবার বা পানীয়ের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা মোট কার্বোহাইড্রেটের ওপর নির্ভর করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস চিকিৎসায় অনেকে খাবারে ভাতের পরিমাণ কমিয়ে তার পরিবর্তে পোলাও, চিড়ে, ওটস, কিনোয়া বা মিলেট জাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন। যদিও এই খাবারগুলোকে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর মনে করা হয়, তবুও সেগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে। এমনকি ডাল, শিম, দুধ বা ফলের মতো পুষ্টিকর খাবারেও কার্বোহাইড্রেট ও প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা সঠিক পরিমাণে না খেলে রক্তের শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া ফলের রস, ডাবের পানি, মিষ্টি লাচ্ছি, মিল্কশেক কিংবা বারবার চা খাওয়ার অভ্যাসও অজান্তে শরীরে শর্করার পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দেয়। মধু, গুড় বা ব্রাউন সুগারকে চিনির বিকল্প ভাবলেও শরীরের ওপর এর প্রভাব একই রকম থাকে।
রক্তে শর্করার সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য খাবার সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে প্লেট খালি করার কোনো প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে কার্বোহাইড্রেটের উৎস ও পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, খাবারের থালায় ভারসাম্য আনতে প্লেটের অর্ধেক অংশ অ-শর্করাযুক্ত শাকসবজি, এক চতুর্থাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (যেমন- ডাল, পনির, ডিম, মাছ বা মুরগির মাংস) এবং বাকি এক চতুর্থাংশ ভাত, রুটি বা অন্য কোনো শর্করা জাতীয় খাবার রাখা যেতে পারে। খাদ্যতালিকা থেকে ভাত বা গম পুরোপুরি বাদ না দিয়ে সঠিক মাপে ও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াটাই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি।
