বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
আল জাজিরার

বিশ্লেষণ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল কি ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

বিশ্লেষণ  যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল কি ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে?

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে এ নির্বাচনে কাউকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে এড়িয়ে চলছিলেন তিনি। তবে এবার নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ ও ‘শান্তির আরও বড় অংশীদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে সামরিক ও আর্থিকভাবে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরান তাদের অবস্থান দ্রুত পরিবর্তন না করলে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ করবে।

গত রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইসরাইলে নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেই এই কাজ করতে হবে। তবে তিনি তা করতে আগ্রহী নন।

ট্রাম্প লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু প্রবল বিরোধিতার মুখেও শক্তিশালী, সাহসী ও অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমনকি ইসরাইলের ভেতর থেকেও তার বিরোধিতা এসেছে। এত কিছুর পরও তিনি টিকে আছেন, বরং আরও শক্তিশালী হয়েছেন।’

নেতানিয়াহুর ওপর যে চাপ ছিল, সাধারণ মানুষ হলে তাতে ভেঙে পড়তেন বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, নেতানিয়াহু সেই চাপের মুখে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের কাছ থেকে এমন অংশীদারত্বই প্রত্যাশা করে। ইসরাইলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনেক কিছু করেছে। তাই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আসন্ন পুনর্নির্বাচনে বিবি নেতানিয়াহুর প্রতি আমার সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থনের ঘোষণা দিচ্ছি। বিবি নেতানিয়াহু কখনোই আপনাদের হতাশ করবেন না।’

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের আসনসংক্রান্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টির বিরোধী জোট সর্বোচ্চ ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ১২০ আসনের নেসেটে ৫১টি আসন। অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষেরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পূর্বাভাস নেই।

নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের এই সমর্থন এমন এক সময়ে এল, যখন এর আগে তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিতে চাননি।

চলতি মাসের শুরুতে টাইম সাময়িকী তাকে দুবার প্রশ্ন করেছিল, নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা উচিত কি না। জবাবে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে ইসরাইল ও ওয়াশিংটনে নিজের জনপ্রিয়তা এবং ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার ডানপন্থি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স তাকে প্রশ্ন করে, ইসরাইলের নির্বাচনে তিনি কোনো ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা করছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আমাকে চায়। হ্যাঁ, তারা আমাকে চায়।’

নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।’

তবে যুক্তরাজ্যের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল মনে করেন, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দুই নেতার মধ্যে কয়েক মাস ধরে টানাপোড়েন চলার পর এই ঘোষণা এসেছে।

আলজাজিরাকে ভাকিল বলেন, ট্রাম্পের এই সমর্থন ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু যে অপরিহার্য, সেই দাবি আরও জোরালো করার সুযোগ করে দেবে।

তবে নির্বাচনে এর প্রভাবকে অতিরঞ্জিত না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ইরান যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে ইসরাইলি ভোটারদের মধ্যে এখনো বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর বিদ্যমান সমর্থকদের আরও সংহত করতে পারে, কিন্তু তার শাসনামলের নানা প্রশ্নের সমাধান করবে না।

লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগও ট্রাম্পের সমর্থনকে নেতানিয়াহুর জন্য ‘রাজনৈতিক উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহু যখন চাপে রয়েছেন, তখন এই সমর্থন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ভাকিলের মতো তিনিও মনে করেন, ট্রাম্পের সমর্থন নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার মতো ঘটনা নাও হতে পারে।

ক্রিগ বলেন, ‘নেতানিয়াহুর সমস্যাগুলো কাঠামোগত। ডানপন্থি দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি, অতি-গোঁড়া ইহুদি ভোটারদের হতাশা এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার উত্তরাধিকার—সব মিলিয়ে তিনি চাপে রয়েছেন। ট্রাম্পের সমর্থন লিকুদ পার্টির অনাগ্রহী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে পারে, যা কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এক বা দুটি আসন বাড়াতে পারে। কিন্তু বর্তমানে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতানিয়াহুর নেই, তা ট্রাম্প তৈরি করে দিতে পারবেন না।’

ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সমর্থনের তাৎপর্য কী?

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থনের বড় অংশজুড়েই রয়েছে ইরান যুদ্ধ। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো, যখন অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, নভেম্বরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অথবা পরে ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করার কথা ভাবতে পারেন ট্রাম্প।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানজুড়ে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে এই সংঘাত শুরু হয়। বর্তমানে যুদ্ধ কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বে মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। এর জবাবে ইরানি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দুই দেশই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালায়। উভয় পক্ষের অভিযোগ, জাহাজগুলো তাদের নির্দেশনা মানছিল না।

গত মাসে মার্কিন নৌবাহিনী আরও বেশি তেলবাহী ট্যাংকারকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপারের সুযোগ করে দেওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে আসে। কিন্তু চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের ধারাবাহিক হামলায় আবারও এই প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে।

সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৫৭ ডলারে দাঁড়ায়। শুক্রবার দাম সামান্য সময়ের জন্য ১১০ ডলারে পৌঁছেছিল, যা গত ১৯ মে-এর পর সর্বোচ্চ।

গত মাসে হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে দিয়েছিল তেহরান। তবে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সাড়া না দেওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়। এসব শর্তের মধ্যে ছিল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান।

রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দেশটির সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রস্তাবটি এখনো বহাল রয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। এর পরদিনই আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।

তবে রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়া এড়াতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে চান।

তিনি লেখেন, ‘গতবার আপনারা কাজটি শেষ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছিল। আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? স্বাগতম। তবে সাবধান, আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে।’

আরাগচি আরও অভিযোগ করেন, ‘কারাগারে যাওয়া এড়াতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন। ইসরাইলের পরিণতি কী হবে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কী হবে, তা নিয়েও তিনি ভাবছেন না।’

আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প মূলত ‘চাপ প্রয়োগের কৌশলগত সুবিধা’ কাজে লাগাতে চাইছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি কূটনীতির বদলে যুদ্ধকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

ক্রিগ বলেন, ‘নৌ অবরোধ ইরানকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, সময় তাদের পক্ষে কাজ করছে। ট্রাম্পের হিসাব হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ছাড় না দিয়েই এক সময় ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হবে।’

তার মতে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এই কৌশলের পেছনে থাকা সামরিক হুমকিকে আরও জোরালো করেছে। তবে এর অর্থ কূটনীতির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। ট্রাম্প এখনো এমন একটি চুক্তি চান, যেটিকে তিনি নিজের বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন।

ক্রিগ সতর্ক করে বলেন, বিপদের জায়গাটি হলো, তেহরান ক্রমেই মনে করতে পারে যে দর-কষাকষিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে তাদের সংঘাত আরও বাড়াতে হবে।

এরপর কী হতে পারে?

সানাম ভাকিলের মতে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমন্বয় নতুন করে জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের যৌথ সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রেখেছে।

তবে এই ঘোষণার কারণে যুদ্ধ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র অনিচ্ছা সত্ত্বেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে—এমন দাবি করা ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে।

ভাকিল বলেন, ‘ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই ইসরাইলের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। তবে এই সমর্থনের অর্থ এই নয় যে, দুই নেতা নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালাতে সম্মত হয়েছেন। যুদ্ধের বিষয়ে শুরুতে কে সবচেয়ে বেশি চাপ দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নেরও মীমাংসা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য তেহরানের নেতাদের মধ্যে এমন ধারণা আরও জোরালো করবে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে কার্যত তেমন কোনো পার্থক্য নেই।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহু ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্পের অনীহার ইঙ্গিত থেকে তেহরান এ ধারণাও করতে পারে যে, আরেকটি যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের আগ্রহের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ট্রাম্প এর আগে বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না। তবে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটাররা কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ইরানে নতুন করে হামলা শুরুর পরিকল্পনা তৈরি করেছে পেন্টাগন।

গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, দুই দেশের নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

ক্রিগের মতে, ইরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো হামলা না হলে, যার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা এখনো কম।

তিনি বলেন, ‘৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আরও বিপজ্জনক সময় শুরু হতে পারে। তখন নির্বাচনী বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না। দুই দেশের সামরিক বাহিনীই সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

ক্রিগের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কোনো সংঘাত, যা দুই নেতা রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই ওয়াশিংটনকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।

এম/আই

Link copied!