প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের বিরুদ্ধে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে ঘটেছে সহিংসতার ঘটনা। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ছয়টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাঙচুর করা হয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কার্যালয়, পাসিঘাট থানা ও রাজ্যের শাসকদলের একাধিক নেতার বাড়ি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাসিঘাট, মেবো ও রুকসিন শহরে জনসমাবেশ ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল ও জনসভা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অস্ত্র বহন এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের বিরুদ্ধেও কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
শনিবার জেলাশাসক জয়ন্তী পার্টিনের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সুপার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি বসিরাম সিরাম এই উত্তেজনার জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্টের সমীক্ষায় সমর্থন আদায় করতে সরকার স্থানীয় গ্রামবাসীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। পুলিশি বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সিয়াং নদীর উপর প্রস্তাবিত মেগা বাঁধের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয় মানুষের আপত্তি ও সরকারের অবস্থানকে কেন্দ্র করে উপত্যকায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
অন্যদিকে, প্রস্তাবিত ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) নিয়ে যাচাইহীন তথ্য, বিভ্রান্তিকর দাবি ও ভুয়া খবর প্রচার না করার আবেদন জানিয়েছে অরুণাচল প্রদেশ রাজ্য সরকার। শনিবার রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্প সম্পর্কে সঠিক তথ্যের জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও অনুমোদিত সূত্রের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: দ্য অরুণাচল টাইমস
