সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ঘিরে তেলের ব্যবসায় মার্কিন কোম্পানির ১৩০ বিলিয়ন ডলার মুনাফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

ইরান যুদ্ধ ঘিরে তেলের ব্যবসায় মার্কিন কোম্পানির ১৩০ বিলিয়ন ডলার মুনাফা

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হলেও বড় অঙ্কের মুনাফা করছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো। গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর–ছয় মাসে দেশটির ৫১টি বড় জ্বালানি কোম্পানির মুনাফা ১৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে তেল, গ্যাস ও পরিবহন জ্বালানির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলো শুধু পেট্রল ও ডিজেলেই অতিরিক্ত ১৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। খবর আল জাজিরার।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের একই সময়ে ওই ৫১ কোম্পানির সম্মিলিত মুনাফা ছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও কম। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিগুলোর আয় বাড়ে।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাবের বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা পেট্রল ও ডিজেলে অতিরিক্ত ১৫০ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন। এর অর্থ, প্রতিটি পরিবারের গড় বাড়তি ব্যয় ১ হাজার ১৫০ ডলারের বেশি। ফলে যুদ্ধের অর্থনৈতিক বোঝা কে বহন করছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হচ্ছে। আবার ডিজেলসহ পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় শোধনাগারগুলোর মুনাফাও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং নিষেধাজ্ঞাজনিত বাণিজ্য জটিলতা বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট বাড়িয়েছে। তুলনামূলক নিরাপদ মার্কিন স্থাপনা ও কম দামে অপরিশোধিত তেল পাওয়ার সুযোগ দেশটির কোম্পানিগুলোকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় দুই তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও শেভরন শুক্রবার ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে মুনাফার কথা জানিয়েছে। শোধনাগার খাতেও আয় বেড়েছে। ভালেরো এনার্জির তৃতীয় প্রান্তিকের মুনাফা ছয় গুণের বেশি বেড়ে ৬ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফিলিপস ৬৬-এর নিট আয় এক বছর আগের ১৩৩ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা থাকতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং লোহিত সাগর-সংলগ্ন বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

রাবোব্যাংকের জ্বালানি কৌশলবিদ ফ্লোরেন্স শ্মিটের মতে, যুদ্ধ কত দিন চলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আগামী বছরও জ্বালানির দাম উঁচু থাকতে পারে। সরকার হস্তক্ষেপ না করলে ভোক্তাদের ওপর মূল্যচাপ অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের সতর্কতা, উচ্চ তেলের দাম দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমিয়ে মন্দার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এতে জ্বালানির চাহিদা কমার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে রূপান্তরও ত্বরান্বিত হতে পারে।

এম/আই

Link copied!