শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬
দেশে আছে ৫৭ হাজার কোটির

লুটেরা-দুর্নীতিবাজদের ৭৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ–অবরুদ্ধ

সংসদ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

লুটেরা-দুর্নীতিবাজদের ৭৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ–অবরুদ্ধ

লুটেরা- দুর্নীতিবাজূের সম্পদ জব্দ

দেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগে দেশে–বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ জব্দ, ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই সম্পদের মধ্যে আছে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার, বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও), বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ তহবিল ইত্যাদি।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব–সম্পর্কিত কমিটির প্রথম বৈঠক সংসদ ভবনে হয়। কমিটির সভাপতির অনুপস্থিতিতে কমিটির সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর সভাপতিত্বে এ সভা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশের চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার উদ্যোগসমূহের সারসংক্ষেপ’ শীর্ষক প্রতিবেদন কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়। অনুমিত হিসাব–সম্পর্কিত কমিটিতে বাংলাদেশের চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কে আলোচনা এবং পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ছয় ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও ওরিয়ন গ্রুপ। এই ছয় ব্যক্তি ও গ্রুপের ঋণের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলার।

বৃহস্পতিবার অনুমিত হিসাব–সম্পর্কিত কমিটিতে আরও জানানো হয়, ঋণের পরিমাণ এবং বিদেশে অবস্থিত সম্পদের তথ্যের ভিত্তিতে আরও ৪০ টি ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্যায়ে দেওয়ানি কার্যক্রম করা হবে। তাদের ঋণের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলার।

বৈঠকে কমিটির সদস্য (সংসদ সদস্য) মো. সেলিম রেজা, মো. আবদুল আজিজ, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মোসাম্মৎ সাম্মী আক্তার, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও মো. মাসুদ পারভেজ অংশগ্রহণ করেন।

সংসদ সচিবালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশে পলায়ন বা তাদের সম্পদ স্থানান্তর প্রতিরোধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় ইন্টারপোলে রেড নোটিশ অনুরোধ পাঠানোর পাশাপাশি পাচার করা অর্থ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য কমিটি সুপারিশ করে।

অনুমিত হিসাব–সম্পর্কিত কমিটিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুসারে, আদালতের আদেশের আওতায় থাকা মোট সম্পদের মধ্যে দেশে রয়েছে ৫৭ হাজার ৩২৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকার সম্পদ। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ১০ হাজার ৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

বিদেশে থাকা সম্পদের মূল্য ১৯ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ ১৫ হাজার ১২৪ কোটি ১ লাখ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

সম্পদ উদ্ধারে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ‘অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ (এআরটিএফ) নামে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১৪২টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, রায় হওয়া মামলার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) মামলাও রয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে পালানো বা সম্পদ স্থানান্তর ঠেকাতে ১৫৮ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের কাছে ১০টি রেড নোটিশের অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে ১৬টি বিচারিক এখতিয়ারের কাছে মোট ৩০টি পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ বা এমএলএআর পাঠানো হয়েছে।

এম/এ

Link copied!