রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
৫ অক্টোবর অবস্থান কর্মসূচি

এনসিটি ও সিসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি বন্দর রক্ষা কমিটির

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

এনসিটি ও সিসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি বন্দর রক্ষা কমিটির

চট্টগ্রাম বন্দর লীজ দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তি বাতিল এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম। এ দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর বন্দরের প্রধান গেইটে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু এসব দাবি জানান।
তিনি বলেন, গত ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর প্রস্তাব ‘বিবিধ’ এজেন্ডায় উপস্থাপনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিষয়টি মূল এজেন্ডায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়নি কেন।
ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, রাজস্ব ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এনসিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনে দেওয়ার আগে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য আয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চুক্তির আর্থিক সুবিধা-ঝুঁকি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তুলনামূলক মূল্যায়ন প্রকাশ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বন্দর রক্ষা কমিটি বিদেশি বিনিয়োগ বা আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধী নয়। তবে জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় রাজস্ব, কর্মসংস্থান, শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে করা ২২ বছরের চুক্তির অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডের প্রস্তাবিত কনসেশন চুক্তি বাতিল, সিসিটি ইজারা প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রত্যাহার এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আন্দোলনে যুক্ত শ্রমিকদের হয়রানিমূলক বদলি ও প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাওয়া এবং জাতীয় সংলাপের প্রস্তাব দেওয়া হলেও কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি বলে কমিটির দাবি। তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়; বরং জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য।
তিনি জানান, আগামী ৫ অক্টোবর বন্দরের প্রধান গেইটে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। ওই সময়ের মধ্যে ইজারা উদ্যোগ বাতিলের সুস্পষ্ট ঘোষণা না এলে বৃহত্তর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে সব শ্রমিক সংগঠন, প্ল্যাটফরম ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, শ্রমিক নেতা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, এস কে খোদা তোতন, শ ম জামাল উদ্দিন, ইফতেখার কামাল খান, রবিউল হক শিমুল, খোরশেদ আলম, মো. হারুন, তসলিম হোসেন সেলিমসহ অন্যরা।

এম/এ

Link copied!