সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬

বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ অনিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ অনিশ্চিত

 বৈধ ভিসা থাকলেই কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত হয় না। জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, জনস্বাস্থ্য ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ চাইলে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কাউকে দেশে প্রবেশে বাধা দিতে পারে।
এমনটাই জানিয়েছে ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট।-তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু।

তুর্কমেনিস্তানের এক নারীর করা মামলার শুনানিতে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অমিত মহাজন এ বিষয়ে আদেশ দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ওই নারী বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা নিয়ে ভারতে পৌঁছালেও দেশটির অভিবাসন বিভাগ তাকে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে ফেরত পাঠায়। তবে তার সঙ্গে থাকা স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

এরপর ভারতে ঢুকতে বাধা দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো এবং বৈধ ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন ওই নারী।

আদালত বলেছে, ভিসা থাকা মানেই ভারতে প্রবেশের জন্য নিঃশর্ত অনুমতি পাওয়া নয়। কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের এমন কোনো স্বাভাবিক বা আইনগতভাবে নিশ্চিত অধিকার নেই।

আদালতের মতে, ভিসা দেওয়া, ভারতে প্রবেশের অনুমতি এবং অভিবাসন ছাড়পত্র-সবই রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অংশ। জাতীয় নিরাপত্তা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক, জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সরকারের পক্ষের আইনজীবীও আদালতে বলেন, বৈধ ভিসা থাকলেও কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের নিশ্চিত বা অখণ্ডনীয় অধিকার তৈরি হয় না। ভিসা দেওয়া এবং দেশে প্রবেশের অনুমতি দুটি আলাদা বিষয়। ভারতে প্রবেশের বিষয়টি অভিবাসনসংক্রান্ত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার আওতাধীন।
কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, ওই নারীর বিষয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এরপর সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।

তার ভ্রমণ ইতিহাস নিয়েও অভিবাসন কর্মকর্তাদের উদ্বেগ ছিল বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালে ওই নারী মোট ৪৭ বার ভারতে এসেছিলেন। বেশির ভাগ সফরের মেয়াদ ছিল এক থেকে তিন দিন। এসব সফরে তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা-দুই ধরনের ভিসা ব্যবহার করেছিলেন।

আদালতে উপস্থাপিত নথি পর্যালোচনা করে বিচারপতি মহাজন আরও কয়েকটি অসঙ্গতি তুলে ধরেন। নথিতে ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। ভারতে আসার উদ্দেশ্য ব্যবসা উল্লেখ করা হলেও তার কাছে কোনো ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র বা আমন্ত্রণপত্র ছিল না। এমনকি নিজ দেশের ব্যবসা সম্পর্কেও তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি।

এ ছাড়া ব্যবসায়িক ভিসা নেওয়া হলেও ওই নারী নিজেকে ‘গৃহিণী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলেও আদালতের নথিতে উঠে আসে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তার আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত বলেন, মামলার সব পরিস্থিতি ও উপস্থাপিত নথি বিবেচনায় ওই নারীর ভারতে প্রবেশের দাবি টেকসই নয়। কারণ, কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের স্বাভাবিক বা আইনগতভাবে নিশ্চিত অধিকার নেই।

দৈনিক মুক্তবাণী

Link copied!