রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ

মেধা তালিকায় উপজেলায় দ্বিতীয় হয়েও ‘অদৃশ্য’ কারণে নিয়োগবঞ্চিত ফয়জুল

মুক্তবাণী রিপোর্ট

প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

মেধা তালিকায় উপজেলায় দ্বিতীয় হয়েও ‘অদৃশ্য’ কারণে নিয়োগবঞ্চিত ফয়জুল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন মো. ফয়জুল আলম। ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় মেধাতালিকায় তার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়।
চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ৪৩ জনের মধ্যে ৪২ জন নিয়োগপত্র পেলেও বাদ পড়েছেন ফয়জুল। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এই চাকরি প্রত্যাশী।

ভুক্তভোগী ফয়জুল লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরটিটিয়া এলাকার কাজী মো. নূরুল ইসলামের ছেলে। নিয়োগের আশায় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু নিয়োগপত্র না পেয়ে এখন চরম হতাশায় দিন কাটছে তার। নিজের নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্তির দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করছেন ফয়জুল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ অংশ নিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ফয়জুল। পরে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্তও হন তিনি।
ভোলা জেলায় এ নিয়োগে মোট ২৫৬ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন। তাঁদের মধ্যে লালমোহন উপজেলার ৪৩ জনের মধ্যে ফয়জুল ছাড়া বাকি ৪২ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

এ বিষয়ে ফয়জুল আলম বলেন, ‘আমি বাবা-মায়ের বড় সন্তান। আমার ওপর পুরো সংসার নির্ভরশীল। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।
উপজেলা পর্যায়ে মেধাতালিকায় আমার অবস্থান দ্বিতীয়। আমার কাগজপত্রেও কোনো সমস্যা নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি হবে—এমন প্রত্যাশায় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু আমার সঙ্গে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ উপজেলার ৪২ জন নিয়োগপত্র পেলেও আমার নাম আসেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ খবর পেয়ে আমার মা অসুস্থ হয়ে এখন শয্যাশায়ী। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, এনএসআই আমার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দেখানোর কারণে আমার নিয়োগপত্র আসেনি বলে জানানো হয়েছে। আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, কোনো পদ-পদবিতেও ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ বা ফৌজদারি মামলার রেকর্ড নেই। এরপরও কেন আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দেখানো হয়েছে, তা জানি না।’

নিয়োগপত্র না পাওয়ায় হতাশার কথা জানিয়ে ফয়জুল বলেন, তার পরিবারে স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও ভাই-বোন রয়েছেন। চাকরি পেলে পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে জীবনযাপন করার আশা ছিল তার।

ফয়জুলের ভাষ্য, এর আগে তিনবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চূড়ান্ত নিয়োগ পাননি। এবার চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের অজ্ঞাত কারণে তাঁর চাকরির সুযোগ নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমাও শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আবেদনের সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

ফয়জুল বলেন, ‘মেধার মূল্যায়ন না করে অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করা হলে আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের এত কষ্ট করে পড়াশোনা ও চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে কী লাভ? সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, আমার নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত ও নিয়োগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’

এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভোলা জেলায় লালমোহনের একজনসহ মোট চারজন শিক্ষক বাদ পড়েছেন। এই চার শিক্ষকের ডকুমেন্টসহ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে তাদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জে/এইচ

Link copied!