শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মির্জা গালিব।
তিনি বলেছেন, অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব কারা পালন করবেন এবং কী প্রক্রিয়ায় তদন্ত হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম থাকা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির কঠোর শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব।
পোস্টে তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এ নীতি সমানভাবে প্রযোজ্য। তবে মাদরাসা দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় সেখানে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে ইসলামপন্থিদের দায়িত্ব অন্যদের তুলনায় আরও বেড়ে যায়।
তিনি লেখেন, ইসলাম শুধু মুসলমানদের মুক্তির জন্য আসেনি, বরং সমগ্র মানবতার মুক্তির জন্য এসেছে। ইসলামি রাজনীতির ধারণাও দাঁড়িয়ে আছে এই বিশ্বাসের ওপর যে, শোষণ ও নিপীড়নের বিপরীতে ইসলামি ব্যবস্থা মানুষের মুক্তির পথ সুগম করতে পারে।
ড. মির্জা গালিব বলেন, একটি ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে কোনো শিক্ষার্থী যদি নির্যাতন ও জুলুমের শিকার হয় এবং পরে ন্যায়বিচারও না পায়, তার চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।
নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, সে বিষয়ে আলোচনা না করেই বাংলাদেশের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থায় এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গালিব বলেন, দেশে অনেক বড় আলেম এবং একাধিক ইসলামি রাজনৈতিক দল রয়েছে। সবাই মিলে যদি ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে তাদের প্রচারিত ধর্ম ও রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের মুক্তি সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন উঠবে।
নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে ধরে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর উদাহরণ দেন তিনি। বলেন, মিসরের রাজার স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় খাদ্য ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত পরিকল্পনা দিয়েছিলেন ইউসুফ (আ.)। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধানের পথ দেখানোই নেতৃত্বের মূল কাজ।
তিনি মনে করেন, নিজেদের ঘরের সমস্যা সমাধান করতে না পারলে সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।
দেশের ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল ও আলেমদের উদ্দেশে মাদরাসার শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান মির্জা গালিব।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সমস্যাগুলো উপেক্ষা বা অস্বীকার না করে সেগুলো স্বীকার করতে হবে, কারণ চিহ্নিত করতে হবে এবং সমাধানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নিজেদের সততা ও সক্ষমতা জাতির সামনে প্রমাণ করতে হবে।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদরাসায় একজন শিশু শিক্ষার্থীকে শিক্ষক যৌন হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তারই জেরে শিশুটির বাবা দলবল নিয়ে ওই মাদরাসায় ঢুকে অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রচুর মারধর করে রক্তাক্ত করেন।
শুধু তাই নয়, ওই শিক্ষককে পুলিশেও সোপর্দ করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করলেও সেটি মঞ্জুর করেননি বিচারক।
