প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নারিতা-ঢাকা রুটের ফ্লাইট বিজি-৩৭৭-এ কারিগরি ত্রুটির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবারের এ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি পর্যালোচনা এবং দায়দায়িত্ব নির্ধারণে চার সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন সেলের পরিচালক মো. নিয়ামুল কবির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি করা হয়েছে চিফ (প্রশাসন ও সিভিল) পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে।
সদস্য হিসেবে রয়েছেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন) এবং ডেপুটি চিফ (ফ্লাইট সেফটি)। কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে ব্যবস্থাপক (আইনবিষয়ক) পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে।
প্রয়োজনে বিমানের যেকোনো কর্মকর্তাকে কমিটির সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে– নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইট বিজি-৩৭৭-এর উড্ডয়নের আগে সংঘটিত কারিগরি ত্রুটির প্রকৃত কারণ ও ধরন উদঘাটন করা। এছাড়া কারিগরি ত্রুটি শনাক্তকরণ, নিরসন এবং ভবিষ্যতে ডেডিকেটেড এয়ারক্রাফটের উন্নয়ন ও উপযোগিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গৃহীত কারিগরি ও অপারেশনাল কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে কমিটি।
ঘটনার ফলে ফ্লাইটের বিলম্ব, অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়, যাত্রীদের ভোগান্তি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তির ওপর সৃষ্ট প্রভাবও নিরূপণ করতে হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের দায়িত্ব ও কর্তব্য পর্যালোচনা করে কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলা, সমন্বয়হীনতা কিংবা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল কি না, তা যাচাই করে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করবে কমিটি।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালাও প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, গঠিত কমিটিকে আগামী চার কর্মদিবসের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
