রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
অর্থমন্ত্রী

সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নির্ভুল তথ্য-উপাত্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নির্ভুল তথ্য-উপাত্ত

উন্মুক্ত তথ্যব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, একটি সরকারের ব্যালেন্স শিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত।
সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে এসব তথ্যের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

তথ্য গোপন না রেখে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরো গণমুখী ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) কাজের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন অডিটরিয়ামে ‘জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার রাজনীতির গণতান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি অর্থনীতিরও গণতান্ত্রিকীকরণ করতে চায়। অর্থনীতি গণমুখী ও গণতান্ত্রিক না হলে রাজনৈতিক গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়ে। অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হলে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্তের বিকল্প নেই।

বিবিএসের স্বাধীনতার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংস্থাটিকে কাজের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
তথ্য গোপন রাখার পরিবর্তে উন্মুক্ত তথ্যব্যবস্থা বা ওপেন ডাটার মাধ্যমে একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে। পাশাপাশি তথ্যের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও নীতিগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

তথ্যের নির্ভুলতা ও সততার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, তথ্যের সঙ্গে কারসাজি করা মানে নিজের সঙ্গে প্রতারণা করা। তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না।

ফরেনসিক অডিটের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতের কোনো উদ্যোগকে আক্রমণ করা এর লক্ষ্য নয়। বরং সমস্যার গভীরে গিয়ে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই এর উদ্দেশ্য। সঠিক তথ্য-উপাত্ত ছাড়া বৈষম্য দূর করা কিংবা সুনির্দিষ্ট গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

তথ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু বলেন, বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কার্যক্রমের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে সংস্থাটি যেভাবে কাজ করছে, তা প্রশংসনীয়। এ কাজে বিবিএস এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বিবিএসের বিদ্যমান জনবলসংকট নিরসনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

জেএইচ

Link copied!