শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
ডা. শফিকুর রহমান

হাসিনার পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার, গণভোট ও জুলাই সনদ অস্বীকারের পরিণাম হবে ভয়াবহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

হাসিনার পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার, গণভোট ও জুলাই সনদ অস্বীকারের পরিণাম হবে ভয়াবহ

টঙ্গীস্থ শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখছেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এখনো মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত নির্বাচনের আগে একটি দল বলেছিল নির্বাচন হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, কিন্তু বাস্তবে সমস্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণ করে বর্তমান সরকার বিগত হাসিনা সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে। এরা গণভোটকে অস্বীকার করছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না। এভাবে চলতে থাকলে এই সরকারের গন্তব্যও হাসিনার মতোই হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে টঙ্গীস্থ শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে আয়োজিত ২০২৬ সালের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

গাজীপুর মহানগরী আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুর রউফ, মাওলানা শাহজাহান, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, ডক্টর খলিলুর রহমান মাদানি, সাবেক জেলা আমীর আবুল হাশেম খান, জেলা আমীর ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম, মহানগরী নায়েবে আমীর খায়রুল হাসান, সেক্রেটারি আ স ম ফারুক এবং জেলা মহিলা সেক্রেটারি আমেনা বেগমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আমীরে জামায়াত তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলামী ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক এক নতুন বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমান সরকার বৈষম্যের নতুন মাত্রা যোগ করছে। শিক্ষাঙ্গনে আগের মতোই দলীয়করণ, লুটতরাজ ও উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে ভাগ বসানো হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত হয়েছে। এই অবস্থায় এ দেশের জনগণ একমাত্র জামায়াতে ইসলামীকেই তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করে।
রুকনদের উদ্দেশ্যে তিনি নির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, সুরা ও কালাম বুকে ধারণ করে খাঁটি ইসলামী চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে। নিজের নফস, পরিবার ও আচরণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। শুধু তলোয়ার দিয়ে ইসলাম কায়েম হয়নি, মহানবী সা.-এর সুমহান আদর্শ ও ভালো আচরণে
আকৃষ্ট হয়ে বিদায় হজ্বে লক্ষাধিক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
রাসুল সা. তাঁর আমল ও নৈতিকতার শক্তি দিয়েই মদিনাসহ সারাবিশ্ব জয় করেছিলেন। সমাজে সুদের কোনো স্থান নেই, সর্বাবস্থায় সুদ হারাম।
গাজীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা উল্লেখ করে আমীরে জামায়াত স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জান-মাল দিয়ে কাজ করে বিজয় ছিনিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত হলেও দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পছন্দের দলীয় লোক দিয়ে। ফলে বর্তমানে দেশে কার্যত দুই ধরণের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান-একটি জনগণের ভোটাধিকারের নামে, আর অন্যটি বিএনপির একক পছন্দে। সরকার তাদের পছন্দের লোক বসিয়ে সিন্ডিকেট তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করছে। এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশ ও জাতি আজ জামায়াতে ইসলামীর দিকে বহু আশা নিয়ে চেয়ে আছে। তিনি বলেন, শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে হলেও দেশে আল-কুরআনের শাসন কায়েম করা
হবে, ইনশাআল্লাহ।
সম্মেলনের শুরুতে দারসুল কুরআন পেশ করেন মাওলানা আব্দুল হালিম এবং ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন দেশীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীবৃন্দ।
 

জে/এইচ

Link copied!