পবিত্র মসজিদুল হারামে আজ জুমার নামাজের ইমামতি করবেন শায়খ ড. ফয়সাল বিন জামিল হাসান গাজ্জাবি। আর মসজিদে নববিতে জুমার নামাজ পড়াবেন শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-বুআইজান। অন্যান্য সপ্তাহের মতো আজও পবিত্র দুই মসজিদের জুমার খুতবা ও নামাজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
মসজিদুল হারামে শায়খ ফয়সাল গাজ্জাবি:
আজ মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার নামাজের ইমামতি করবেন শায়খ ড. ফয়সাল বিন জামিল হাসান গাজ্জাবি।
তিনি মসজিদুল হারামের অন্যতম ইমাম এবং কিরাআতশাস্ত্রের একজন প্রখ্যাত গবেষক।
শায়খ ফয়সাল গাজ্জাবি ১৩৮৫ হিজরির ২৭ জিলহজ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পবিত্র কোরআনের কিরাআত বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৪০৯ হিজরিতে তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং ১৪২৩ হিজরিতে একই বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বর্তমানে তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৪২৮ হিজরি থেকে তিনি পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মসজিদে নববিতে শায়খ আবদুল্লাহ আল-বুআইজান:
অন্যদিকে আজ মদিনার পবিত্র মসজিদে নববিতে জুমার নামাজের ইমামতি করবেন শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-বুআইজান। তিনি মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব হওয়ার পাশাপাশি মদিনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদের শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শায়খ আল-বুআইজান ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদ থেকে ১৪২২ হিজরিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ইসলামী বিচারব্যবস্থা ও শরিয়াহ রাজনীতি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৪৩৭ হিজরিতে ইসলামী বিচারব্যবস্থা বিষয়ে ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। ১৪৩৪ হিজরির ৪ জিলহজ রাজকীয় আদেশে তাকে মসজিদে নববির নিয়মিত ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। শিক্ষা, গবেষণা ও বিচারব্যবস্থা—এই তিন ক্ষেত্রেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
কোরআন তিলাওয়াতেও রয়েছে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা। তিনি হাফস ‘আন আসিম রেওয়ায়েতে শাতিবিয়্যাহ তরিকার মাধ্যমে কিরাআতের ইজাজাহ লাভ করেছেন। তাঁর হৃদয়স্পর্শী খুতবা ও সুললিত তিলাওয়াত মুসলিম বিশ্বের বহু মানুষের কাছে সমাদৃত।
মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের জুমার নামাজ প্রতি সপ্তাহেই মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসল্লিরা সরাসরি সম্প্রচার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে হারামাইনের জুমার খুতবা শোনার ও পবিত্র দুই মসজিদের আধ্যাত্মিক পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগ পান।
সূত্র : দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন
