শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

নিহত ৪০ জনকে স্মরণ করলো ঢাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

নিহত ৪০ জনকে স্মরণ করলো ঢাবি

১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হলে সংঘটিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০ জনকে স্মরণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জগন্নাথ হল স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জগন্নাথ হলের কিশোরীলাল রায় চৌধুরী অডিটোরিয়ামে উপাচার্যের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হয়।

আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের মর্মান্তিক ঘটনা জাতি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রিত করেছিল। ঐক্যের এই বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে এবং তা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।

উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখতে কাজ চলছে। এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে আবাসিক হলসহ নিজ নিজ বাসস্থানে সবাই নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবার। সবাইকে নিয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করি।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দেবাশীষ পাল, হলের সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অজয় কুমার দাস, জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক নিবাস চন্দ্র মাঝি।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, জগন্নাথ হলের আহত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ।

দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল, হোস্টেল ও প্রধান প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় সকালে জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা হয়। একই স্থানে আয়োজন করা হয় রক্তদান কর্মসূচি। এছাড়া বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআসহ বিভিন্ন হলের মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাতের কর্মসূচি রাখা হয়।

জগন্নাথ হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিহতদের তৈলচিত্র ও দুর্ঘটনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্রব্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হলের উপাসনালয়ে শোকসংগীত ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে ‘অক্টোবর স্মৃতি রচনা প্রতিযোগিতা’ ও ‘অক্টোবর স্মৃতি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’রও আয়োজন করে হল প্রশাসন।

জানা গেছে, ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে সংঘটিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৬ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৪০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারী ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হন আরও অসংখ্য শিক্ষার্থী ও অতিথি। সেই দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালন করে।

এম/আই

Link copied!