পশ্চিমা গণমাধ্যমে মুসলিমদের নিয়ে প্রচলিত একপেশে ধারণাকে ভাঙতে নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘নিউইয়র্ক মুসলিম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’। ১১ অক্টোবর ম্যানহাটানের এসভিএ থিয়েটারে বসবে এক দিনের এই ব্যতিক্রমী উৎসব। মুসলিম নির্মাতারা যেন নিজেদের গল্প নিজেদের মতো করে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারেন, সেই লক্ষ্যে এই আয়োজন।
উৎসবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নাওয়াল মুবিন বলেন, ‘এই উৎসবের মূল ভিত্তি হলো আনন্দ, সংলাপ ও একাত্মবোধ। মুসলিমেরা একটি বৈশ্বিক ও বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়। নির্দিষ্ট একক কোনো মুসলিম গল্প বলে কিছু নেই। প্রতিটি দৃষ্টিকোণই আমাদের পরিচয়ের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে এবং প্রতিটি গল্পই বলার দাবি রাখে।’
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এক দিনের এই উৎসবে ৭টি দেশের মোট ১২টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। প্রামাণ্যচিত্র, ড্রামা, কমেডি, অ্যানিমেশন ও এক্সপেরিমেন্টাল—নানা ঘরানার সিনেমার মিশ্রণ থাকছে এতে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নির্বাচিত বেশির ভাগ সিনেমাই নারীদের বানানো।
বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে উৎসবে নির্বাচিত এসব সিনেমা। তালিকায় রয়েছে, আশির দশক থেকে কারাবন্দী এক সাবেক গ্যাং সদস্যের গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানানো নিয়ে জাস্টিন মাশুফের প্রামাণ্যচিত্র ‘$১৭.৭৪’, বাবা ও ছেলের গল্প ‘বাবা ইজ মেল্টিং’, তিন প্রজন্মের আফগান নারীদের গল্প নিয়ে কমেডি ‘হারাম সালামি’, মৃত্যুশয্যায় থাকা বাবার শেষ ইচ্ছা নিয়ে ‘গোসল’ এবং এক মুসলিম কর্মীর মজার অভিজ্ঞতা নিয়ে কানাডিয়ান কমেডি ‘আনকোয়ালিফায়েড’।
এ ছাড়া থাকছে সিরীয় এক শরণার্থী শিশুর ফুটবল ম্যাচ জেতার গল্প ‘বুকরা’, সন্তানের মুখে প্রথম ডাক শোনার আকুলতা নিয়ে এক দম্পতির ফরাসি ড্রামা ‘ইয়া হানৌনি’, এক শিশুর সাইকেল পাওয়ার স্বপ্ন ও ধৈর্যের গল্প নিয়ে পাকিস্তানি ড্রামা ‘সবর ও শোকর’, সৌদি ফ্যান্টাসি ‘মালিকা’, অ্যানিমেশন ‘মাই ফ্রেন্ড ইন দ্য জিংগেল ট্রাক’, ডাইনোসর-ভক্ত এক শিশুর গল্প ‘দ্য বয় উইথ ডাইনোসর হেড’ এবং যুক্তরাজ্যের এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্ট ‘হেনা’।
নিউইয়র্ক মুসলিম ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ছয় সদস্যের জুরিবোর্ডে রয়েছেন এমি বিজয়ী অভিনেতা আসিফ মান্ডভি। এ ছাড়া আছেন অস্কারে পাঠানো পাকিস্তানি অ্যানিমেশন সিনেমা ‘দ্য গ্লাসওয়ার্কার’-এর প্রযোজক আবুবকর খান, আরব-আমেরিকান লেখক ও নির্মাতা দারিন হোতাইতে, লেবানিজ-আমেরিকান নির্মাতা সারাহ মোখ, মিসরীয়-আমেরিকান অভিনেতা আবুবকর আলী ও ওয়াটারমেলন পিকচার্সের হেড অব প্রোডাকশন মুনির আতালাহ।
