বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

তলপেটে চিনচিনে ব্যথা হওয়ার কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

তলপেটে  চিনচিনে ব্যথা হওয়ার কারণ

বাম তলপেটে চিনচিনে ব্যথা: কারণ কী এবং কখন সাবধান হবেন?

শরীরের যেকোনো অস্বস্তির লক্ষণই বিশেষ কোনো বার্তার ইঙ্গিত দেয়। অনেক সময় বাম পাশের তলপেটে কিছুক্ষণ পরপর চিনচিনে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তবে ঠিক কোন জায়গায় ব্যথা হচ্ছে, এর স্থায়িত্ব কতক্ষণ এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এর মূল কারণ নির্ভর করে। চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র এই একটি লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়।

তাহলে বাম তলপেটে এই ব্যথার পেছনে সাধারণ কারণগুলো কী হতে পারে?

১. গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্য: পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমা, মল শক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা পেট নিয়মিত পরিষ্কার না হলে এই অংশে মাঝে মাঝে অস্বস্তি বা ব্যথা হতে পারে।

২. অন্ত্রের সমস্যা: অন্ত্রের খিঁচুনি বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS)-এর সমস্যা থাকলে পেটে ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

৩. মূত্রনালির সংক্রমণ বা কিডনিতে পাথর: প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, কোমর থেকে তলপেটে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকতে পারে।

৪. নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ কারণ: মাসিকের ব্যথা, ওভুলেশন বা ডিম্বস্ফোটনের সময়কার ব্যথা, ওভারিয়ান সিস্ট কিংবা অন্যান্য গাইনোকোলজিক্যাল জটিলতার কারণেও তলপেটে ব্যথা হতে পারে।

৫. অন্ত্রের প্রদাহ বা সংক্রমণ: ব্যথার পাশাপাশি যদি জ্বর, পেটে অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতা বা মলত্যাগের ধরনে হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, তবে তা অন্ত্রের প্রদাহের লক্ষণ হতে পারে।

কখন জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

সাধারণ ব্যথা ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত:

  • হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা শুরু হওয়া কিংবা ব্যথার মাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়া।
  • উচ্চ জ্বর, বারবার বমি হওয়া, পেট শক্ত হয়ে যাওয়া বা মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়ার উপক্রম হওয়া।
  • প্রস্রাব বা মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
  • গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে তলপেটের যেকোনো একপাশে তীব্র ব্যথা, বিশেষ করে এর সঙ্গে যোনিপথে রক্তপাত বা মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখা দিলে।

সচেতনতা: এই ধরনের ব্যথা বারবার ফিরে এলে বা দীর্ঘস্থায়ী হলে নিজে থেকে কোনো ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আপাতত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন এবং ব্যথার সুনির্দিষ্ট ধরন ও সময়কাল খেয়াল রাখুন।

দৈনিক মুক্তবাণী

Link copied!