ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ মণিপুরে কুকিদের সঙ্গে হওয়া সংঘর্ষবিরতি চুক্তি বাতিল, সংঘাতের অবসান ও বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের দাবিতে রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। এসব দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে কয়েকটি মণিপুরি ও নাগা সংগঠন। আগামী ৩১ অক্টোবর মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে অনুষ্ঠিত হবে এই মহাসমাবেশ।
কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি (কোকোমি), জয়েন্ট ট্রাইব কাউন্সিল, নাগা হিউম্যানিটারিয়ান এইড কমিটি, ফুটহিলস নাগা কোঅর্ডিনেশন কমিটি এবং নাগা পিপলস ইউনিয়ন এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলও কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা আসাম রাইফেলসের পরিবর্তে অন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছে।
অন্যদিকে, কাংপোকপির সিংদাই এলাকার শতাধিক বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি ও কুকি-জো নারীরা গ্রেপ্তার হওয়া তিন কুকির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। খোংবাল এলাকায় তিন মেইতেই কাঠুরিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর মধ্যে কুকি-জো কাউন্সিল পৃথক প্রশাসনের দাবি আরও জোরালো করেছে। সংগঠনটির দাবি, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে এ পর্যন্ত আড়াই শতাধিক কুকি-জো নিহত হয়েছেন ও ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সংগঠনটি বলেছে, কুকিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সংলাপে অগ্রগতি না হলে কুকি-জো বিধায়কদের সরকার থেকে সরে আসতে বলা হতে পারে।
রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে নাগা উপ-মুখ্যমন্ত্রী লোসি দিখোর মন্তব্যে। তিনি অভিযোগ করেছেন, সহ-উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেনের স্বামীর নেতৃত্বাধীন কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্ট ছয় নাগার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল।
দিখো জানান, আটজন নাগা বিধায়ক ইতিমধ্যে নেমচা কিপগেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে হওয়া সংঘর্ষবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সহিংসতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচন আয়োজন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে, রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইম্ফল সফর করেন কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) মহাপরিচালক জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং। তিনি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেন। পরে তার সঙ্গে বৈঠক করেন আসাম রাইফেলসের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিকাশ লাখেরা। দুই বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়।
লাখেরা তেংনৌপাল জেলার মোরে ও চংজাং এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
