বাগেরহাটের মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চীনা বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চীনের বৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ সরকারের বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এতে বন্দর, জ্বালানি, যোগাযোগ, শিল্পায়নসহ ১৪টি খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে ‘মোংলা বন্দর সুবিধার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।
চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। সিআরসিসির পক্ষে স্মারকে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী সংস্থা চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিসিইসিসি) চেয়ারম্যান লি চংইয়াং।
সমঝোতা অনুযায়ী, সিআরসিসি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য প্রকল্পে বিনিয়োগকারীর ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
সমঝোতা স্মারকে সহযোগিতার জন্য ১৪টি খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ-চীন মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল, কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, রোলিং স্টক সংযোজন কারখানা, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো, বন্দর উন্নয়ন, ফ্রেইট করিডর এবং নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন।
এ ছাড়া দক্ষ কর্মীদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও বিদেশে কর্মসংস্থান, পরামর্শক সেবা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের বিষয়ও রয়েছে সমঝোতার আওতায়।
সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়নের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার ডাভোস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ও সিআরসিসির চেয়ারম্যানের মধ্যে হওয়া ঐকমত্যের ধারাবাহিকতায় এই সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সমঝোতার আওতায় প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ও প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, পণ্য পরিবহন, জ্বালানি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্ভর করবে পরবর্তী বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, সমীক্ষা, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর।
