দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে মহানগর দায়রা জজ আদালতেও।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত রোববার শুনানি নিয়ে জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।
ওই আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার এ তথ্য দিয়েছেন।
নজরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান, মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
মাহাবুবুর রহমান শুনানিতে বলেন, “আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সাথে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। কেবলমাত্র উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হয়রানি করার জন্য তাকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আসামি ৭৫ বছর বয়সী একজন বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। জটিল হৃদরোগে ভুগছেন। তার স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং জামিন পেলে তিনি আত্মগোপন বা এলাকা ত্যাগ করবেন না। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আসামির প্রথম স্ত্রী আপসের শর্ত জামিন পেয়েছে। একই শর্তে এ আসামিও জামিন পাওয়ার হকদার।”
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।
দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়।
এর আগে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকেও নজরুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুরের আদেশ আসে। তবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম আপসের শর্তে জামিন পান।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ। মামলায় আসামি করা হয় গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে।
মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানও কারাগারে রয়েছেন।
