‘দেশের বাড়ি’ পরিচয় নিয়ে নিজের মজার অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের আঞ্চলিকতার প্রবণতা নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয়পর্বে ‘দেশের বাড়ি’ কোথায়—এ তথ্য জানানোও নিষেধ করেছিলেন তিনি।
সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পুরোপুরি অফিস করার প্রথম দিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয়পর্বে একজন নিজের ‘দেশের বাড়ি’ কোথায় তা বলতে শুরু করলে তিনি তাকে থামিয়ে দেন। ওই কর্মকর্তাকে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে দেশের বাড়ি বলা নিষেধ। মনে থাকবে?’
আসিফ নজরুল লেখেন, এরপর বিষয়টি নিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক ছিলেন এবং কেউ আর তার কাছে দেশের বাড়ির পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেননি।
‘দেশের বাড়ি’ জানাতে আপত্তির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে পরিচয়পর্বের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাড়ি কোথায়—এ নিয়ে আলোচনা করার প্রবণতা রয়েছে। অনেক সময় এর মাধ্যমে খাতিরের সম্পর্ক তৈরি কিংবা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, কোনো মন্ত্রীর বাড়ি যে জেলায়, সেই জেলার মানুষ চাকরি বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে—এমন একটি ধারণা সমাজে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। নিজের শিক্ষকতা জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ক্ষমতাবান শিক্ষকের মধ্যেও এ ধরনের আঞ্চলিকতার প্রবণতা দেখেছেন বলে জানান তিনি।
পোস্টে সংবিধানের প্রসঙ্গও টেনে আসিফ নজরুল বলেন, জন্মস্থানের ভিত্তিতে কারও সঙ্গে বৈষম্য করা যাবে না—বাংলাদেশের সংবিধানে এমন বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে বিভিন্ন জেলার মানুষের সুবিধা-অসুবিধার সম্পর্ক তৈরি হওয়ার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।
মন্ত্রণালয়ের বাইরে অবশ্য ‘দেশের বাড়ি’ পরিচয়ের এমন ঘটনা এড়াতে পারেননি বলেও জানান তিনি। একদিন ব্যস্ততার মধ্যে দেখা করতে আসা এক ব্যক্তি বসার আগেই জানান, তার বাড়ি নেত্রকোনায়। পরে আরও নির্দিষ্ট করে বলেন, ‘নেত্রকোনা, কেন্দুয়া থানা।’
এরপর বিষয়টি বুঝতে পারেন আসিফ নজরুল। হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি কেন্দুয়ায় হওয়ায় ওই ব্যক্তি সম্ভবত এই পরিচয়ের মাধ্যমে বিশেষ ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে চাইছিলেন—এমনটাই রসিকতার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি।
সবশেষে নিজের বাবার বাড়ির এলাকার প্রসঙ্গ টেনে আসিফ নজরুল বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকায় তার বাবার বাড়ির এলাকার এত বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করেন—এ বিষয়টি তার নতুন করে জানা হয়েছে।
