বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিএজে-এর মাসিক প্রতিবেদন

এক মাসে ২৮ সংবাদকর্মী হত্যা, হামলা, আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার

মুক্তবাণী ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

এক মাসে ২৮ সংবাদকর্মী হত্যা, হামলা, আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার

বিএজে’র মাসিক রিপোর্ট

সদ্য বিদায়ী অক্টোবর- ২০২৬ মাসে অন্তত ২৮ জন সংবাদকর্মী বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। হত্যার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্ট (বিএজে)’র মাসিক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জন্য অক্টোবর মাসেও কর্ম পরিবেশ ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা শারীরিক হামলা, গ্রেফতার, আইনি হয়রানি, হত্যা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন। দেশের মূল ধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে সংগৃহীত তথ্য ও নিজস্ব সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরির কথা জানিয়েছে বিএজে। এ মাসে শারীরিক হামলা ও আঘাতের শিকার হন ১৮ জন, আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার হন ৯ জন সংবাদকর্মী। 
হত্যার শিকার এক 
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া গ্রামে চা-দোকানে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা দুইজন অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর হামলায় প্রাণ হারান সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির । তিনি  বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানী লেখালেখি করার জেরে তাঁকে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে সহকর্মীরা দাবি করেছেন।
শারীরিক হামলা ও আঘাত
অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীদের হাতে অন্তত ১৮ জন সাংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। 
উল্লেখযোগ্য: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় চার সাংবাদিক আহত হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক ও ব্যাট হাতে মিছিল থেকে আসা নেতা-কর্মীরা অস্ত্রের ভিডিও ধারণ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের মারধর করেন। হামলায় একজন সাংবাদিকের মাথা ফেটে যায়। এসময় উদ্ধারে এগোনো সাংবাদিকদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে এক সাংবাদিককে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, মোটরসাইকেলে আসা ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী চোখ-মুখ বেঁধে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে এবং এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয়, মাজার বস্তির মাদকের সংবাদ প্রকাশ করলে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। জ্ঞান হারালে তাঁকে ফেলে যাওয়া হয়।
আইনি হয়রানির শিকার ও হুমকির শিকার 
সাংবাদিকদের আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকারের ঘটনাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অক্টোবর মাসে অন্তত ৯ জন সাংবাদকর্মী আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন। 
উল্লেখযযোগ্য: ঝিনাইদহে কলেজের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হন। সাংবাদিকদের অভিযোগ, কলেজের ইট বিক্রির অনিয়ম ঢাকতে অধ্যক্ষের মদদে বহিরাগতরা তাঁদের রড দিয়ে পেটায় এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, ডিবি পুলিশের মাদক সংশ্লিষ্টতার সংবাদের জেরে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। 
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সিলেট সাইবার সিকিউরিটি আদালতে দুই সাংবাদিকের নামে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে মৃত নারীদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় জীবননাশের হুমকি পেয়েছেন একজন সাংবাদিক। সাংবাদিকের করা জিডিতে মর্গের সাবেক সহকারীকে হুমকির মূল হোতা বলা হয়েছে; তিনি ফোন করে ভয় দেখান এবং ‘কোর্টে দেখে নেওয়ার’ বার্তা পাঠান। 
সাংবাদিকদের ওপর চলমান এই আক্রমণ ও আইনি হয়রানি মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য এক অশনি সংকেত বলে মনে করে বিএজে । রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বা পেশী শক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিএজে অবিলম্বে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার দ্রুততম সময়ে সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।

এম/এ

Link copied!