মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

হাসিনা ভারতে বসে যা করছেন, বাংলাদেশ থেকে হলে মোদি কী ঢাকা সফর করতেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

হাসিনা ভারতে বসে যা করছেন, বাংলাদেশ থেকে হলে মোদি কী ঢাকা সফর করতেন?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তবে দিল্লিতে বসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলছেন ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন, একই ধরনের পরিস্থিতি ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে তৈরি হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর করতেন কি না– এমন প্রশ্ন রেখেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর সমাপনী দিনে বক্তব্য দেয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে সহায়ক পরিবেশ কীভাবে তৈরি হবে– এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কূটনৈতিক চ্যানেলে দুই দেশের মধ্যে কথাবার্তা ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও চলমান সংলাপ ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সেগুলোর ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সফরে গেলে শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ হবে। তার আগে কর্মকর্তা পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। ভারতে অবস্থানরত অন্যান্য অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, এক দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশের সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য বাধা তৈরি করে। ভারত থেকেও কেউ বাংলাদেশে এসে ভারতীয় সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করলে বাংলাদেশ তা হতে দেবে না। একইভাবে ভারতও এমন কর্মকাণ্ড হতে দেবে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকা দরকার, সেটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যেগুলো ইতিবাচক। কিছু বৈঠক বাতিল হওয়ার বিষয়টিও তিনি এ ধরনের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নতুন নির্বাচিত সরকারের চ্যালেঞ্জ বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতে পালিয়ে যাওয়া একজন ব্যক্তি সেখানে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।

তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, কথাবার্তার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো যাবে। বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে এগোবে এবং তিনি আশা করছেন প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে। প্রধানমন্ত্রী কখনো বলেননি যে তিনি ভারত যাবেন না।

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্দিষ্ট কোনো তারিখের কথা বলেননি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়টি এক-দুই দিনের তারিখ দিয়ে নির্ধারণ করার বিষয় নয়। বাংলাদেশের জন্য যা ভালো এবং দেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য যা ভালো, সরকার সেটিই করবে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও কূটনীতির দরজা সবসময় খোলা থাকবে। ইতিবাচক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

নভেম্বরে বাংলাদেশ-ভারতের গঙ্গা চুক্তি শেষ হচ্ছে। নবায়নের প্রক্রিয়া কি হবে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির জানান, ঢাকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারত সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবে সরকার।

এম/আই

Link copied!