শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

‘শ্রমিকের দারিদ্র্যের ওপর রপ্তানি প্রতিযোগিতা দাঁড় করানো যাবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

‘শ্রমিকের দারিদ্র্যের ওপর রপ্তানি প্রতিযোগিতা দাঁড় করানো যাবে না’

শ্রমিকের দারিদ্র্যের ওপর বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা দাঁড় করানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন শ্রমিকনেতারা। তারা বলেন, সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে কোনো শিল্প দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।

শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন এবং রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ন্যায়সংগত মজুরি অপরিহার্য।
শুক্রবার  জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (জিবিবিডব্লিউএফ) ও ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টারের (এনডব্লিউইউসি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন।

গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন ও ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টারের সভাপতি মোসা. সুলতানা বেগমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নারী কমিটির সভাপতি রোজিনা আক্তার সুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দীন, দপ্তর সম্পাদক আমরিন হোসাইন এ্যানি প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মোসা. সুলতানা বেগম বলেন, ২০২৬ সালের ৯ম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও ২০২৩ সালে নির্ধারিত ১২,৫০০ টাকার বর্তমান ন্যূনতম মজুরি দিয়ে মুদ্রাস্ফীতির বাজারে শ্রমিকদের জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

খাদ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় বাড়লেও মজুরি সেই অনুপাতে বাড়েনি। সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ভাবলেও এই প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘসূত্রতা বা বন্ধ দরজার আলোচনায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
নেতারা বলেন, বিশ্বমানের ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা এ শিল্প থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করলেও শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির দায় এড়াতে পারে না। মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ বা হিট স্ট্রেসকে পেশাগত স্বাস্থ্য ও শ্রমিক অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের আট দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো– অবিলম্বে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে; ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে; মোট মজুরির অন্তত ৬৫ শতাংশ মূল মজুরি করতে হবে; বছরে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে; মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের প্রকৃত ও স্বাধীন প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে; আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের আর্থিক দায়িত্ব নিতে হবে; হিট স্ট্রেসকে পেশাগত স্বাস্থ্য ও শ্রমিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং চাকরির নিরাপত্তা, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও স্থায়ী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি হাইকোর্ট মোড়, তোপখানা রোড ও পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।

দৈনিক মুক্তবাণী

Link copied!