বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, বিএনপির অধীন নতুন সরকার গঠন হয়েছে মাত্র সাত মাস। এ সময়ে বিরোধী দল রাজপথে জনগণের অধিকার আদায়ের স্বার্থে বেশকিছু বড় কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে। তারা জনগণের অধিকার পদদলিত করছে।
শুক্রবার নরসিংদীর পলাশ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পলাশ শাখার আয়োজনে নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, আমাদের কর্মসূচির সমালোচনা করে সরকারি দল ও তাদের বন্ধুরা বলছেন, সরকারকে তো সময় দেওয়া দরকার। এখনো ছয়-সাত মাস হতে পারল না, বিরোধী দল কেন এত অস্থির হয়ে পড়ল?
তিনি বলেন, আমরা তো ছয় মাস পর রাজপথে নেমেছি। আপনারা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যখন ৭০ ভাগ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছিল, তখন ৫০ ভাগ ভোট পেয়ে আপনারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন কিন্তু ৭০ ভাগ জনগণের ভোটের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণ করতে অসম্মতি জানালেন।
তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন করতে ছয় মাস বিলম্ব করেছি কিন্তু জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করতে আপনারা তো ছয় মিনিটও বিলম্ব করেননি। সংসদের মুখপাত্র জাতীয় সংসদে গিয়ে বলেন, গণভোট নাকি অবৈধ হয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, একই মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া দুই সন্তানের একজন অবৈধ হলে অপরজন বৈধ হতে পারে না।
তিনি বলেন, একই নির্বাচন কমিশনের ও একই তফসিলে একই সঙ্গে একই দিনে দুটি ব্যালটে ভোট হলো। একই সঙ্গে ভোট দিলেন, একই সঙ্গে ফল ঘোষিত হলো। সংসদ নির্বাচন যদি বৈধ হয়, তাহলে গণভোট অবৈধ হতে পারে না। গণভোট যদি অবৈধ হয়, বিএনপি সরকার বৈধ হতে পারে না।
গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পলাশ উপজেলা শাখার আয়োজনে নাগরিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের পলাশ উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি ফারুক ভূঁইয়া।
এ সময় আরো বক্তব্য দেনÑবাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, নরসিংদী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইলিয়াছ শেরপুরী, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত শ্রমিক মজলিসের সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী প্রমুখ।
