রংপুর নগরীতে জমির মালিকানা ও মন্দির দখলকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে বিসর্জন না দিয়ে মন্দিরে ফেরানো হয়েছে প্রতিমা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে শোভাযাত্রা থেকে প্রতিমা পুনরায় মন্দিরে রাখেন পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি।
এর আগে বুধবার নগরীর ঠিকাদারপাড়ায় সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চালায়।
স্থানীয়রা জানান, ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্থানীয় দশরথের তিন শতক জমিতে অস্থায়ী মণ্ডপ তৈরি করে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চলতি বছর পূজা উদ্যাপন কমিটি দুর্গাপূজার পর কালী প্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা বসানোর মাধ্যমে স্থায়ী মন্দির স্থাপনের প্রস্তুতি নেয় মহানগর কৃষকলীগের সভাপতি প্রাণ কৃষ্ণ গোস্বামী।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি কৌশলে সেখানে কালীমন্দির স্থাপন করে জায়গাটি দখলের পায়তারা করছেন। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও হয়েছিল, যেখানে পূজা-অর্চনা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু অস্থায়ী মন্দির কমিটির সদস্যরা সুকৌশলে জায়গাটি দখল করার জন্য নতুন করে প্রতিমা স্থাপন করে ওই জায়গায় রেখে তারপর দুর্গোৎসবের প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়ার প্রস্তুতি নেন; আর তাতেই বিপত্তি ঘটে।
গণেশ চন্দ্র ও শ্যামল কান্তি নামের কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, এতদিন পূজা উদ্যাপন সুস্থভাবে চললেও বিসর্জনের আগে একই স্থানে পুনরায় নতুন প্রতিমা স্থাপন নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। সেই উত্তেজনা রাতভর চলে। প্রশাসনের লোকজন সারারাত চেষ্টা করেও সমাধান করতে পারেনি। রাতের বেলা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপনের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান এবং মণ্ডপের জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা বরাদ্দ দিলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় উপকৃত হতো বলে উল্লেখ করেন।
অনিমেষ চন্দ্র রায় জানান, বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের সময় জমির মালিক দশরথ সব প্রতিমা সরিয়ে নিয়ে মন্দির খালি করার দাবি জানালে তার ও পূজা উদ্যাপন কমিটির মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরপর প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে স্থায়ী মন্দির স্থাপনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে পূজা উদ্যাপন কমিটিসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি পক্ষ। আরেক পক্ষ, নিজের জমি উদ্ধারের জন্য সব প্রতিমা সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে জমির মালিক দশরথ ও তার লোকজন রাস্তার অপর পাশে অবস্থান নেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন গভীর রাত পর্যন্ত উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়।
তবে অস্থায়ী পূজা উদ্যাপন কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রিতা রানীর স্বামী ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের মন্দির করার জন্য এই জায়গাটি ভাড়া দিয়েছেন। সেই আলোকেই তাঁরা সেখানে মন্দির স্থাপন করেছেন।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বৃহস্পতিবার জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা ও অচলাবস্থা এখনো বিদ্যমান। যে পক্ষ পূজা করেছে তারা প্রতিমা বিসর্জন দিতে চাইলেও মন্দির খালি করতে চাচ্ছে না এবং দখলেই রাখতে চাচ্ছে।
অন্যদিকে জমির মালিকপক্ষের দাবি, মন্দির খালি করে দিয়ে সব প্রতিমা সরিয়ে নিতে হবে। উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সেখানে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। রাতে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।
