ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈধ করার চেষ্টার প্রমাণ মেলায় পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ও বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানাসহ চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত এই দুই মামলায় মোট ৩৮ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ হাজার ১০০ কোটি টাকারও বেশি অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক এসবি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সায়লা ফারজানা, সায়লা ফারজানার ভাই রেজাউল আলম শাহীন ও তার স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পাকে।
দুদকের অনুসন্ধান দলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামি রেজাউল আলম শাহীন তার বোন সায়লা ফারজানা ও ভগ্নিপতি মো. মনিরুল ইসলামের ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ অর্থকে বৈধ করার অপপ্রয়াস চালান। অনুসন্ধানে তার নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এছাড়া ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ৫২৭ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৮ টাকা জমা এবং ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৯১০ টাকা উত্তোলনসহ সর্বমোট ১,০৪৫ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৮ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে।
দ্বিতীয় মামলায় সানজিদা খানম টুম্পার নামে ১৫ কোটি ৩০ লাখ ২১ হাজার ৫৯ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে তার মোট ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৫ টাকার সম্পদের মধ্যে বৈধ উৎস পাওয়া যায় মাত্র ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭০৬ টাকার।
পাশাপাশি তার নামে থাকা ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৮ টাকা জমা এবং ২৫ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৫ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৫৮ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৪০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হচ্ছে।
