রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরাতন গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার ও সেখানে এশিয়া বাণিজ্য মেলার কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় মাঠে চলমান মাটি পরীক্ষা বা সয়েল টেস্টের কাজ বন্ধ করে পরীক্ষার সরঞ্জাম ও স্যাম্পল সংগ্রহের দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের লাগানো সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিয়ে যান তারা।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শেকৃবির পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা সচিবালয় নির্মাণের জন্য চলমান সয়েল টেস্টের কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও স্যাম্পল সংগ্রহের দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাগানো সাইনবোর্ডটি উপড়ে ফেলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রেখে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা মাঠটি ফিরিয়ে না দেয়ায় ব্যবহারিক শিক্ষা ও উচ্চতর কৃষি গবেষণা ব্যাহত হচ্ছে। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া ওই মাঠে কোনো ধরনের বহিরাগত কার্যক্রম বা নির্মাণকাজ করতে দেয়া হবে না। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া এবং সেখানে অন্য কোনো স্থাপনা বা কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তারা।
এদিন গবেষণা মাঠের জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে স্থায়ীভাবে উদ্ধার ও সুরক্ষার দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের কাছে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। এতে আগামী তিন দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে মাঠটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা মাঠ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা এবং জমি উদ্ধারে হাইকোর্টে রিট করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মাঠে এশিয়া প্যাসিফিক বাণিজ্য মেলার কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. আশিক আহমদ বলেন, ‘চোখের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অথচ প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই। আমরা প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে সিন্ডিকেট সভা ডেকে জোরালো আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিতে হবে এবং ওই জায়গা যে আমাদের, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার জানান, গবেষণা মাঠ রক্ষার আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তরের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বাণিজ্য মেলার মাঠ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিটি রয়েছে। কমিটি রিটের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তারা সিদ্ধান্ত জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে কমিটির সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত কাজ শুরু করার কথা জানান তিনি।
