শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
ডা. শফিকুর রহমান

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, কথা দিয়ে যাচ্ছি জীবন যাবে তবু জাতির সঙ্গে বেইমানী করবো না

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, কথা দিয়ে যাচ্ছি জীবন যাবে তবু জাতির সঙ্গে বেইমানী করবো না

 জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান খুলনাবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘কথা দিয়ে যাচ্ছি, জীবন যাবে তবু জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না ইনশাআল্লাহ। আপনারা শুধু দোয়া করবেন, জাতির জন্য লড়াই করতে করতে আল্লাহ যেন শহীদ হিসেবে কবুল করেন। মাঝখানে কোনো আপস নাই। আপস করতে জানি না। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করতে জানি না।’ তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বরং আন্দোলন কর্মসূচি একের পর এক আরও শক্তিশালী হবে। প্রয়োজনে খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার ডাক দেওয়া হলে গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘর থেকে মানুষ সেখানে হাজির হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি খুলনায় আহবায়ক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, নেজামি ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযাহার চৌধরী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বেলাল হোসেন নেয়াজী, নেজামি ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযাহার চৌধরী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তর আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি , নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, এনসিপি নেতা  আবদুল হান্নান মাসুউদ এমপি, জাগপার ছাত্র ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান ফারুকী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ হুসাইন আকন্দ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ডাকসুর জি এস এম ফরহাদ, চাকুসর ভিপি ইব্রাহিম রনি, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলা সহ-সভাপতি মুফতী আব্দুল কাইয়ুম জোয়াদ্দার, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. ওয়াহিদুজ্জামান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চর টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এমপি, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নাযেবে আমীর মাওলানা কবিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি শরিফ সাইদুর রহমান, এনসিপির মহানগর আহবায়ক আহম্মদ হামীম রাহাত, লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ এস এম সাইফুদ্দোহা, নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মো. জাকির হোসেন খান, এনসিপির মহানগরী সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল্লাহ চৌধরী, এবি পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বকর সিদ্দিক, বিডিপির মহানগর সভাপতি এডভোকেট মো. হানিফ উদ্দিন, বাংলাদেশ
খেলাফত আন্দোলনের মহানগর সভাপতি মুফতি মো. ইব্রাহিম খলিল, জাগপার মহানগর সভাপতি মো. ইয়াসিন আরাফাত, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা গাজী শরিফুল ইসলাম ওহিদ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান, ছাত্রশক্তির খুলনা মহানগর সভাপতি জাহিদ হাসান সোহান প্রমুখ। সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ ক্বারী মো. হাবিবুল্লাহ বেলালী। এ ছাড়া মঞ্চে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। এসব দাবি কোনো দল বা জোটের নিজস্ব দাবি নয়, বরং দেশের মানুষের বাঁচা-মরার দাবি। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দাবি আদায় করেই তাঁরা ঘরে ফিরতে চান।
গণভোটের রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে তা বাস্তবায়নের কথা বলেছিলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তাঁরাই এখন সেই রায় মানতে চাইছেন না। তাঁর অভিযোগ, গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মত দিলেও সংসদে সেই রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হচ্ছে। এখন ক্ষমতায় বসে আগের মতো দেশ পরিচালনার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কার্ডেও মাধ্যমে এক হাজার, দেড় হাজার বা দুই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অথচ গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ না করেও বিল নেওয়া হচ্ছে, বিদ্যুৎ না পেলেও বিল দিতে হচ্ছে। এসবের মাধ্যমে জনগণের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কৃষকের সারসংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নতুন করে সার ডিলার নিয়োগে ২০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। অথচ কৃষক প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ গত সাড়ে ১৫ বছরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, চাঁদাবাজি বন্ধ, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধের দাবিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, জনগণকে জুলুম, চাঁদাবাজি ও লুটপাট থেকে মুক্ত করাই তাঁদের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ১১ দলের বিজয় চাই না, আমরা এ দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের বিজয় ও মুক্তি চাই।’ জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পথের পাশে মানুষের উপস্থিতি এবং সমাবেশে অংশগ্রহণ তার প্রমাণ।
পথসভায় আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আমরাও আঙ্গুল বাঁকা করতে পিছপা হবোনা ইনশাআল্লাহ। সরকার পতনের ডাক আসলেই খুলনাবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, শিববাড়ি মোড়ে ১১ দলের পথসভা শুরু হয় বেলা ১১টায়। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানে নেতৃত্বাধীন গাড়ী বহরের মাথা পৌঁছে বেলা আড়াইটায়। কিন্তু বহরের শেষাংশ রূপসা সেতু পার হতে লেগে যায় সাড়ে তিনটা। বিকেল চারটায় শৃংখলা বিভাগের গাড়িতে থাকা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আরও অন্তত: দু’শ গাড়ি নগরীতে প্রবেশ না করে জিরো পয়েন্ট থেকে বাইপাস সড়ক দিয়ে ফুলতলার দিকে গিয়ে বহরে অংশ নেয়।
 

দৈনিক মুক্তবাণী

Link copied!