শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

জামিন চাননি দীপের আইনজীবীরা, চেয়েছেন ‘সতর্কতার রিমান্ড’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

জামিন চাননি দীপের আইনজীবীরা, চেয়েছেন ‘সতর্কতার রিমান্ড’

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরি হত্যা মামলায় গ্রেফতার সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে শুনানিতে তার জামিন চাননি আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

বরং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন হলে তা যেন সতর্কতার সঙ্গে করা হয়, আদালতের কাছে সেই আবেদন জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন বেলা সোয়া ২টার দিকে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে নৌ-পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানির জন্য বেলা ৩টা ২৪ মিনিটে দীপকে এজলাসে নেওয়া হয়। এর এক মিনিট পর বিচারক এজলাসে আসেন।

শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

অন্যদিকে, আসামি দীপের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ। তারা আদালতকে জানান, নিহত তাহসিফের সঙ্গে দীপের ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল। ইতোমধ্যে তিনি দুই দিন ধরে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

আইনজীবীরা বলেন, মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে দীপকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে তা করা যেতে পারে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ যেন সতর্কতার সঙ্গে করা হয়।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘আমরা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার।

শুনানি শেষে আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, আসামির জামিন বাতিল করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হলো।

আদেশের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে আবারও জানান, তারা দীপের জামিন চাননি। বরং জিজ্ঞাসাবাদ যেন সতর্কতার সঙ্গে করা হয়, সে বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় দীপকে আবার হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

যেভাবে হত্যা মামলায় জড়ালেন দীপ

দীপকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে বলা হয়, নিহত কে এম তাহসিফ সৌরি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাহসিফ নিখোঁজ ছিলেন।

পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ ভাসছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল করার সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা মুঠোফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন নিহত তাহসিফ সৌরিকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন আসামি দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেন, নিহত তাহসিফ তার সিনিয়র ভাই ছিলেন।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামি দীপের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এম/আর

Link copied!