হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব নিতে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এমন কিছু শর্তে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ, যা দেশের ভবিষ্যৎ এভিয়েশন পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর শাহজালাল বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বিমানবন্দর চালু করতে পারবে না সরকার। একই সঙ্গে থার্ড টার্মিনাল চালুর পর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায়ও থাকবে বিধিনিষেধ।
অথচ জাপানেরই সহযোগিতা সংস্থা- জাইকার পূর্বাভাস বলছে, ২০৩৫ সালে এই বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক যাত্রীর সংখ্যা ২ কোটি ছাড়াবে। যা থার্ড টার্মিনালের সক্ষমতা ছাড়িয়ে যাবে।
অর্থাৎ ২০৩৫ সাল নাগাদ, বাংলাদেশের দরকার হবে নতুন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। কিন্তু জাপানের দেয়া শর্ত অনুযায়ী, ২০৪১ সাল পর্যন্ত ঢাকার আশপাশে নতুন কোনো বিমানবন্দর চালু করা যাবে না। শুধু তাই নয়, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে, বর্তমান ১ ও ২ নম্বর টার্মিনাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও পরিচালনা করতে পারবে না বাংলাদেশ। শুধু থার্ড টার্মিনাল থেকেই চালাতে হবে, আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট।
এই চুক্তি মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাতেও। ২০৩৫ সাল থেকে অর্ডার করা উড়োজাহজাজগুলো হাতে পেতে শুরু করবে বিমান। কিন্তু নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের সুযোগ সীমিত থাকলে, এ সব উড়োজাহাজ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত তৈরি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
এমন শর্ত দেশের ভবিষ্যৎ বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।
উইং কমান্ডার (অব.) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অবশ্যই এটি সাংঘর্ষিক। আমরা একটি বাণিজ্যিক চুক্তি করব। আমার উন্নয়নের জন্য কী করব, না করব, সেটা নেগোসিয়েশন টেবিলে আসবে কেন? এই নেগোসিয়েশন টেবিলে আসা উচিত না। আমি আরেকটি এয়ারপোর্ট বানাব কি বানাব না, সেটা নিয়ে তো তাদের মাথাব্যথা হওয়ার কারণ নেই।’
চুক্তি অনুযায়ী থার্ড টার্মিনাল থেকে লাভের ২৭ শতাংশ মিলবে কার্যক্রম শুরুর ৮ মাস পর। তার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ পাবে, মাত্র সাড়ে ১৩ শতাংশ হারে। এছাড়া, দেশের বিদ্যমান আইন মেনে এই চুক্তি হয়েছে। আগামী ১৫ বছরে কোনো আইন পরিবর্তন হলেও, সেটি দিয়ে এই চুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।
এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আরও কয়েকটি কোম্পানি থাকলে হয়তো নেগোসিয়েশন টেবিলে স্ট্রং পজিশনে থাকা যেত। সেটা কিন্তু আমরা অবগত নেই। ইতোমধ্যে আমরা ব্যাকবেঞ্চে। এখন এই ব্যাকবেঞ্চে থেকেও কিন্তু নেগোসিয়েশনে ভালোভাবে ডিল করা যায়।’
তবে বিমানমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলছেন, থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালু করতেই উন্মুক্ত দরপত্রের পথে হাঁটতে চায়নি সরকার। এক্ষেত্রে জাপানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি টার্মিনাল নির্মাণে জাইকার ঋণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিডিং করে কত টাকায় আসবে, সেটাও কিন্তু আমরা জানি না। যেহেতু ৩০ শতাংশ ওয়ার্ক ইন্টিগ্রেশন হয়েছে এবং বিল্ডিং ওরা করেছে। তাদের যে মেশিনপত্র, সেগুলো আনা হয়েছে। তারা যেভাবে নিপুণভাবে করতে পারবে, আমরা ধারণা করেছি, এটা অন্য অপারেটরকে দিলে ইন্টিগ্রেশন আবার কেমন হবে না হবে, একটা ঝুঁকি থেকে যায়।’
