তুলির আঁচড়ে বদলে যাচ্ছে চিরচেনা খুলনা। কোথাও পুরোনো স্থাপনায় নতুন রঙের প্রলেপ, কোথাও সড়ক বিভাজকে বর্ণিল নকশা। আবার কোথাও চলছে সড়ক ও আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও সাজসজ্জার কাজ। প্রতিদিনের পরিচিত নগরী ধীরে ধীরে ধারণ করছে নতুন রূপ। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোতে দৃশ্যমান হচ্ছে পরিবর্তনের ছাপ। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে খুলনাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তাঁকে স্বাগত জানাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, সড়ক বিভাজক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তুলতে দিন-রাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। প্রশাসনিক তৎপরতা, রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও নগরসজ্জার সমন্বয়ে খুলনা এখন এক কর্মব্যস্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলগুলোতে বিশেষ সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরোনো স্থাপনায় রঙের প্রলেপ, সড়ক বিভাজকে রংতুলির নান্দনিক কারুকাজ এবং রাস্তা ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে। কোথাও শ্রমিকেরা দেয়াল ও স্থাপনায় রং করছেন, কোথাও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সরিয়ে নিচ্ছেন ময়লা-আবর্জনা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি খুলনায় দ্বিতীয় সফর। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁর এ সফরকে ঘিরে নগরীতে তৈরি হয়েছে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য। আয়োজকদের প্রত্যাশা, খুলনা থেকে এ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সফর সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে প্রস্তুতি ও সমন্বয়। দলীয় কর্মসূচি ও স্বাগত জানানোর আয়োজন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও আগ্রহ।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফর সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতি ও সমন্বয় চলছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাজসজ্জার পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচি ঘিরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে খুলনাকে প্রস্তুত করছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যতবার খুলনা সফর করবেন, খুলনার উন্নয়ন ততই ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা আশা করি। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খুলনা থেকে সারা দেশের জন্য এ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন করা হবে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে, যা কর্মসূচিটিকে জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করবে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি শুধু অতিথিকে বরণ করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নয়, বরং নিজেদের প্রিয় নগরীকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার একটি সম্মিলিত প্রয়াস। আমরা চাই, খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন স্মরণীয় হয়ে থাকুক। একই সঙ্গে নগরীর এই সৌন্দর্য যেন সফর শেষ হওয়ার পরও বজায় থাকে এবং নগরবাসী এর সুফল ভোগ করতে পারেন। খুলনার উন্নয়ন, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতেই আমাদের এ আয়োজন।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং খুলনার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সমস্যা ও নাগরিক প্রত্যাশার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ তরুণ প্রজন্মের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে ৫ নভেম্বরকে সামনে রেখে খুলনা এখন অপেক্ষার নগরী। রঙের পরশ, পরিচ্ছন্নতার ছোঁয়া আর উৎসবের আমেজে বদলে যাচ্ছে নগরীর চিরচেনা দৃশ্যপট। নগরীর পথে পথে চলছে অতিথিকে বরণ করার প্রস্তুতি। নতুন সাজে সজ্জিত খুলনা এখন অপেক্ষা করছে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের।
