বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। আজ বুধবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

কুনমিং ও চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করার প্রস্তাবিত করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি।

এ সময় শি জিনপিংকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তিনি। পাশাপাশি সুবিধাজনক সময়ে তাঁকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়ক খাতগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

চীনের মন্ত্রী এ সময় সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের অর্থায়ন ও নির্মাণে সহযোগিতা করায় চীনকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে চীনের অব্যাহত সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন। এ বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন চীনের মন্ত্রী।

চলমান জ্বালানি সংকটে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্যও ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।

১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ওই সফরগুলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

লিউ হাইশিং বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় এ সম্পর্ক আরও জোরদার হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চীনে তাঁর সর্বশেষ সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সফররত মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে। এসব বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত জুনে চীন সফরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় এবং সফরকালে সমঝোতা স্মারকসহ বিভিন্ন সহযোগিতা-সংক্রান্ত দলিল স্বাক্ষরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি লিউ হাইশিংয়ের অব্যাহত সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

এর আগে বঙ্গভবনে পৌঁছালে মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি। ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন তিনি। এ সময় রাষ্ট্রপতি তাঁর সচিবদের সঙ্গে চীনের মন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন।

প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লিউ ইউইন এবং সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব (সমন্বয়) সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতি চীনের মন্ত্রীসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বঙ্গভবন পরিদর্শন করান।

এ সময় চীনা মন্ত্রীর বাবা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত লিউ শুকিং ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশের ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। এ ছাড়া এলজিআরডি মন্ত্রী থাকাকালে রাষ্ট্রপতির চীন সফরের আলোকচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, জন বিভাগের সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

জেএইচ

Link copied!