ম্যাচের প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে পাওয়া এক সংবাদ স্প্যানিশ ফুটবল তো বটেই, গোটা ফুটবল বিশ্বকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। মাঠে পাওয়া কনকাশন চোটের কারণে সিডি তেনেরিফের ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগুয়েলের অকাল মৃত্যু রাফিনিয়াকে যেন একটু বেশিই ছুঁয়ে গিয়েছিল, ম্যাচশেষে তিনি জানালেন, দুজনে সমবয়সী ছিলেন বলেই। সে শোক রাফিনিয়ার খেলাতেও প্রভাব ফেলছিল বটে, তবুও তিনি ম্যাচ শেষ করেছেন জোড়া গোল নিয়ে। তার জোড়া গোল আর লামিন ইয়ামালের লক্ষ্যভেদে ভর করে বার্সেলোনা অ্যাস্টন ভিলাকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে। তাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাস্টন ভিলার শতভাগ জয়ের ধারায় ছেদ টানল বার্সেলোনা।
ম্যাচের শুরুটা বার্সার জন্য সহজ ছিল। সপ্তম মিনিটেই ভিলার ভুলে এগিয়ে যায় তারা। বক্সের ভেতর দিয়ে জোয়াও গোমেসের তাড়াহুড়ো করা পাস সোজা চলে যায় ইয়ামালের কাছে। বাঁকানো শটে তিনি বল জালে পাঠান। ১৫ ম্যাচে এটি তার ১৩তম গোল।
দারুণ শুরু করেও এমন গোল হজম করে বসলে দলের মনোবল ভেঙে পড়ে হরহামেশাই। তবে এরপরও ভিলা মনোবল হারায়নি। প্রথমার্ধে সমতায় ফেরার একাধিক সুযোগও এসেছিল। ম্যাটি ক্যাশ ও ভিক্টর লিন্ডেলফের শট লেগে বল কর্নারে যায়। জোহান মানজাম্বি প্রথমে বাইরে মারেন। পরে তার শট ঠেকিয়ে দেন বার্সার গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া।
এই ম্যাচের আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১৮ ম্যাচে বার্সা কোনো ক্লিন শিট রাখতে পারেনি, মাঝে একটা পুরো মৌসুম চলে গেছে ক্লিনশিট ছাড়াই। সে সুযোগটা ভিলাও নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সুযোগ নষ্টের মাশুল দিতে হয়েছে সফরকারীদের।
উল্টো বিরতির সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। রাফিনিয়ার নিচু শট পাউ তরেসের গায়ে লেগে দিক বদলায়। গোলরক্ষক জিওন সুজুকি ভুল দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সে গোলের পর রাফিনিয়া আর তার আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। পুরো দল তার কাছে গিয়ে তাকে সামলাতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে।
ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে আসে তৃতীয় গোল, এবারও সেই রাফিনিয়া। বাঁ প্রান্ত থেকে জোয়াও ক্যান্সেলো বাড়ান অসাধারণ এক পাস, সেটা কাছ থেকে নিখুঁতভাবে বল জালে ঠেলেন লিডস ইউনাইটেডের সাবেক ফরোয়ার্ড।
এরপর অ্যান্থনি গর্ডনের সামনে চতুর্থ গোলের সুযোগ ছিল। সুজুকি তা ঠেকিয়ে দেন। ভিলা তখনও একটা গোলের জন্য প্রাণপণ লড়ে যাচ্ছিল। লেওন গোরেৎজকার হেড পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আর গোল হয়নি।
এই জয়ে লিগ পর্বের তালিকায় ভিলাকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। সঙ্গে ভাঙল ক্লিন শিটের খরাও। ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর ইউরোপে এই প্রথম গোল হজম না করে মাঠ ছাড়ল তারা।
