চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পোর্ট কানেক্টিং সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রায় ২৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় সংস্থাটির সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করা হয়।
কারাগারে পাঠানো অপর দুজন হলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) কুমিল্লা শাখার সাবেক প্রধান মোহাম্মদ সারোয়ার আলম এবং এনআরবি ব্যাংকের একই শাখার সাবেক প্রধান মোহাম্মদ তোফায়েল। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এ মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন।
ঋণ ২০ কোটি, সুদে-আসলে প্রায় ২৪ কোটি ৫৫ লাখ:
মামলার নথি অনুযায়ী, পোর্ট কানেক্টিং সড়কের অলংকার থেকে নিমতলা পর্যন্ত অংশের সংস্কারকাজের কার্যাদেশ পেয়েছিল মেসার্স রানা বিল্ডার্স অ্যান্ড সালেহ আহমেদ (জেভি)। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করেন মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক জাকির হোসেন। এর মাধ্যমে নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ইউসিবিএলের কুমিল্লা শাখায় রানা বিল্ডার্সের নামে একটি ভুয়া হিসাব খোলা হয়।
ওই হিসাবের বিপরীতে ২০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। সুদসহ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৪ কোটি ৫৪ লাখ ৯২ হাজার ৮১৯ টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের বিলের অর্থ ইউসিবিএলে পাঠানোর কথা থাকলেও তৎকালীন প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন নিয়মবহির্ভূতভাবে এনআরবি ব্যাংকের অনুকূলে ছয়টি চেক ইস্যু করেন। এসব চেকের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করে দুদক। মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।
আদালতে যাওয়ার আগে রাজনৈতিক যোগাযোগ:
এদিকে, বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, আদালতে আত্মসমর্পণের আগে সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন ও দুই ব্যাংক কর্মকর্তা বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পেতে পারেন। তবে আদালত তাঁদের জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সূত্রটির দাবি, আদালতের আদেশের পরও সংশ্লিষ্টদের পক্ষে যোগাযোগ ও তদবিরের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং যোগাযোগের দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
