খুলনার তেরখাদায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পূজা দেখা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কাটেঙ্গা বাজারে এ সংঘর্ষের পর আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। প্রায় দুই ঘণ্টা বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকায় বেচাকেনা ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুর্গাপূজার মণ্ডপে পূজা দেখা নিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির আহমেদ টগরের ভাই রিয়াদ শেখের সঙ্গে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোল্লা হুমায়ুন কবিরের ছেলে তাসিম মোল্লার কথা-কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন কাটেঙ্গা বাজারে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
এ সময় বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। সংঘর্ষের কারণে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
খবর পেয়ে তেরখাদা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পর এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশের তৎপরতার কারণে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ আলী বিশ্বাস বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওসার আলী বলেন, ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির আহমেদ টগরের ভাই রিয়াদ শেখ ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোল্লা হুমায়ুন কবিরের ছেলে তাসিম মোল্লার মধ্যে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা বিএনপির নেতারা বসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। উপজেলা যুবদলের নেতা রহমান কবির ও সাব্বির আহমেদ টগরকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে যায়।
চৌধুরী কাওসার আলী আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল এ বিষয়ে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন। তাঁদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পর বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
