নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরায় সিএনজি ও অটোরিকশার সংঘর্ষের জেরে মীমাংসার সালিশ বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সিএনজিচালক ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়দানকারী মো. শাহ আলম (৩৯) গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর বজরা ইউনিয়নের বজরা হাসপাতালের সামনে খালপাড় এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই সালিশ বৈঠক বসেছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর বজরা মেডিকেলের সামনে সিএনজিচালক মো. শাহ আলমের সিএনজির সঙ্গে অটোরিকশাচালক স্বপনের (২৫) অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে স্বপন সামান্য আহত হন। এ ঘটনার মীমাংসার জন্য শনিবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সালিশে আহত স্বপনকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে শাহ আলমের পক্ষ থেকে এক হাজার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে স্বপনের পক্ষ থেকে দুই হাজার টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়া নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আরও জানা যায়, সংঘর্ষের একপর্যায়ে স্বপনের বাবা নুর ইসলাম লাঠি দিয়ে শাহ আলমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১২ জন আহত হন বলে জানা গেছে।
পরে গুরুতর আহত শাহ আলমকে দ্রুত সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, নোয়াখালী এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ঘটনার খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একাধিক ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করেছেন যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এই জুলাই যোদ্ধাকে গুরুতর আহত করেছে। মো. বাবলু নামের এক জুলাই যোদ্ধা বলেন, ‘আগামীকাল সকাল ১০ টায় আমরা সকল জুলাই যোদ্ধা ঘটনাস্থলে যাব। শাহ আলম ভাইয়ের সঙ্গে কি হয়েছে তা বের করবো। তারপর থানায় গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমরা ন্যায় বিচার চাই।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, শাহ আলম নামের এক সিএনজি চালক সালিশে আহত হয়েছে। আমাদের কাছে মামলা দিয়েছে আমরা তা গ্রহণ করেছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শাহ আলম সিএনজি চালক হিসেবে জানি সে জুলাই যোদ্ধা কিনা সে বিষয়ে আমরা জানি না এবং পরিবার থেকে কিছু জানানো হয়নি।
