জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) দীঘিনালা-সাজেক সড়কে চতুর্থ দিনের দিনের মতো অবরোধ চলছে। অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পুরো পর্যটন এলাকায় সুনসান নিরবতা বিরাজ করছে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
অবরোধের কারণে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা।
এদিকে গতকাল শনিরার রাতে অবরোধের পক্ষে এবং ৫ দফা দাবির সমর্থনে সাজেকে মশাল মিছিল করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। সন্ধ্যায় সাজেকের ১০ নম্বর ও বঙ্গলতুলি ইউনিয়নে পৃথক পৃথকভাবে মশাল মিছিলটি বের করা হয়।
এদিকে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে খাগড়াছড়িতে সমন্বয় সভা করা হয়েছে।
গতকাল খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সড়ক অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। রাত সাড়ে ৮টায় সেনা রিজিয়ন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং সাজেকের পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উত্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সংকট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং বেসামরিক প্রশাসনের মাধ্যমে অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধাপে ধাপে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।
এ ছাড়া পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির নিরাপত্তা বাহিনী, জেলা পরিষদ এবং বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ মধ্যস্থতাকারী দল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এ দলের নেতৃত্বে থাকবেন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া।
