মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
ছয় খাতে বিতরণ শূন্য

বন্ধ কারখানা সচলে প্রণোদনার ঋণে ধীরগতি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম

বন্ধ কারখানা সচলে প্রণোদনার ঋণে ধীরগতি

বন্ধ কারখানা চালু ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫টি প্যাকেজের আওতায় ১১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম। ছয়টি খাতে এখনো কোনো ঋণ বিতরণ হয়নি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫টি প্যাকেজে ঋণের আবেদন জমা পড়েছে ১৪ হাজার ৫২০ কোটি টাকার। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আর ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন।

গত মে মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এসব ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৭ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে। কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ স্কিমে বিতরণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সিএমএসএমই খাতের চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ৯০৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত চালুর সহায়ক প্রাক্‌-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণ হয়েছে ৫৬১ কোটি টাকা। সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য গঠিত স্কিমে ৫০০ কোটি এবং কৃষি উৎপাদন, খাদ্যনিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ২৯৩ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্কিমে ২০০ কোটি, উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গঠনের স্কিমে ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ এবং স্টার্টআপ খাতে ৩২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বিতরণ হয়েছে।

অন্যদিকে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্কিমে ১ হাজার কোটি টাকা, গ্রিন ফ্যাক্টরি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ৫২৭ কোটি ৪৭ লাখ এবং চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রফতানিমুখী খাতে ৯৮ কোটি টাকার ঋণ আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ বিতরণের গতি বাড়াতে সম্প্রতি ব্যবসায়ী নেতা, অর্থনীতিবিদ ও সাবেক ব্যাংকারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক ব্যাংকাররা ঋণ অনুমোদনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা দ্রুত আয়োজন, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত কমানো এবং বন্ধ কারখানার ক্ষেত্রে খেলাপি হওয়াকে ঋণ পাওয়ার একমাত্র অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা না করা। পাশাপাশি প্রকল্পের সম্ভাবনা বিবেচনায় অর্থায়ন, খেলাপি ঋণের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা এবং বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে ঋণ পাওয়ার শর্ত পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক ব্যাংকাররা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে ঋণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান অর্থায়ন পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। তবে ঋণ পরিশোধের সম্ভাবনা নেই, এমন প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে ঋণ অনুমোদন করতে হবে।

জে/এইচ

Link copied!