মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

সিলেট ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হবিগঞ্জ

মুক্তবাণী রিপোর্ট

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

সিলেট ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হবিগঞ্জ

এক পাশে মসজিদ, অন্য পাশে মন্দির। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ১০ ফুট, দরজাও প্রায় মুখোমুখি। একদিকে ভেসে আসে আজানের সুর ও নামাজের তাকবির, অন্যদিকে চলে পূজার্চনা। অথচ এ নিয়ে নেই কোনো বিরোধ; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ভালোবাসায় দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি চলছে দুই ধর্মের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রম।

এমনকি পূজা উপলক্ষে রং করা হয় মসজিদের সীমানা প্রাচীর, আবার ঈদ এলে রং করা হয় মন্দিরের সীমানা প্রাচীরও। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এমন চমৎকার চিত্র দেখা গেছে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া বাজার এলাকায়। সেখানে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে কামাইছড়া চা-বাগান জামে মসজিদ ও দুর্গামন্দির।

ঢাকা-সিলেট পুরোনো মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই দুর্গামন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৯ সালে। এর প্রায় ১৯ বছর পর ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কামাইছড়া চা-বাগান জামে মসজিদ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে পাশাপাশি অবস্থান করছে উপাসনালয় দুটি। স্থানীয় মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠেছে এক অনন্য ও অটুট সহযোগিতার সম্পর্ক।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের সময় যাতে অপরের উপাসনায় বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য দুই পক্ষের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক সমঝোতা। দুর্গাপূজার সময় নামাজ ও আজানের সময় হলে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা তাদের সব বাদ্যযন্ত্র ও অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজা।

কামাইছড়া চা-বাগান জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমাদের মসজিদ ও দুর্গামন্দির একেবারে পাশাপাশি অবস্থিত। প্রায় ৫০ বছর ধরে আমরা পূজা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমাদের মধ্যে কোনো দিন কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়নি।

পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপাল গোয়ালা বলেন, আমরা হিন্দু-মুসলিম সব সময় মিলেমিশে থাকি। পূজার সময় আমরা মসজিদের সীমানাপ্রাচীর রং করে দিই, আবার ঈদের সময় তারা মন্দিরের সীমানাপ্রাচীর রং করে দেয়। আশা করি, আমাদের এই সৌহার্দ্য ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় জানান, কামাইছড়ায় দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি অবস্থান করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এটি আবহমান কাল ধরে চলে আসা সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানকার মানুষের মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করে আসছেন।

১০ ফুটের ব্যবধানে দাঁড়িয়ে থাকা এ দুই উপাসনালয় কেবল ধর্মীয় ক্ষেত্র নয়, বরং মানবতা, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সহনশীলতার এক আলোকবর্তিকা হয়ে বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে পুরো বাংলাদেশে।

এম/আই

Link copied!