মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

বদলে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, চালু হচ্ছে এআই বিভাগ

মুক্তবাণী রিপোর্ট

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

বদলে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, চালু হচ্ছে এআই বিভাগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিভিন্ন শিল্পের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে উচ্চশিক্ষা খাতেও। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন এআই বিভাগ চালু এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা বাড়াতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে, তখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ভিন্ন পথ বেছে নিচ্ছে।

তারা শুধু এআই-সম্পর্কিত শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং উচ্চশিক্ষার মৌলিক কাঠামো নতুন করে ভাবছে। শিক্ষার্থীদের কী শেখানো উচিত, কীভাবে তাদের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের একান্ত নিজস্ব বলে বিবেচিত অনেক কাজ করে ফেলতে পারলে কোন ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতার মূল্য বজায় থাকবে—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এআইয়ের যুগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে নিজেদের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করছে এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে, তা তুলে ধরা হচ্ছে লেখায় ও আলোচনায়। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশটির অবস্থানের ওপর এসব পরিবর্তনের প্রভাবও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সব বিষয়ে এআই যুক্ত করছে সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (এনটিইউ) এআই শিক্ষাকে আর শুধু প্রকৌশল ও কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না। কলা ও মানবিকবিদ্যাসহ সব বিষয়ে এআইকে শিক্ষার অংশ করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

২০৩০ সালের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ের ৫২টি ডিগ্রি কর্মসূচির ৪০ শতাংশ পাঠ্যক্রমে এআই যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনটিইউ। বর্তমানে এ ধরনের পাঠ্যক্রমের হার মাত্র ৫ শতাংশ।

এই উদ্যোগের আওতায় এআই যুক্ত করা কোর্সগুলোর অর্ধেকে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে। বাকি অর্ধেকে শিক্ষার্থীদের এআই এজেন্ট তৈরি ও পরিচালনা শেখানো হবে। পাশাপাশি বাস্তব শিল্পখাতের প্রকল্পে শিক্ষার্থীরা ভার্চ্যুয়াল দলের সদস্য হিসেবে এআই এজেন্টের সঙ্গে কাজ করবে।

এনটিইউর প্রেসিডেন্ট হো টেক হুয়া বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এআই বিশেষজ্ঞ বানানো বিশ্ববিদ্যালয়টির লক্ষ্য নয়। বরং শিক্ষার্থীরা যে বিষয়ে পড়াশোনা করছে, সেই ক্ষেত্রের জ্ঞানের সঙ্গে এআই ব্যবহারের দক্ষতা যুক্ত করতে পারবে—এমন স্নাতক তৈরি করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। আমরা চাই, একজন স্নাতক নিজস্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার পাশাপাশি এআই এজেন্টগুলোকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হোক।

শিক্ষার নিয়ম নতুন করে সাজাচ্ছে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর (এনইউএস) প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা হচ্ছে, তার চেয়ে শিক্ষার্থীরা কীভাবে শিখছে ও চিন্তা করছে, সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রেসিডেন্ট তান ইং চাই জানান, ২০১৬ সালে গুগলের এআই ব্যবস্থা আলফাগো দক্ষিণ কোরিয়ার গো খেলোয়াড় লি সেডলকে পরাজিত করার পর স্নাতক পর্যায়ের পাঠ্যক্রম নতুন করে সাজানোর কাজ শুরু হয়। ওই সংস্কারের অংশ হিসেবে সব স্নাতক শিক্ষার্থীর জন্য পরিমাণগত যুক্তি বিশ্লেষণ এবং গণনামূলক চিন্তাপদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়। এর মধ্য দিয়ে এআইনির্ভর হয়ে ওঠা ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ভিত্তি তৈরি করা হয়।

তবে তান জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তি শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ করবে না; বরং শিক্ষার লক্ষ্য অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার ঠিক করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার নির্ধারণ করতে হবে শিক্ষাদান পদ্ধতির প্রয়োজন অনুযায়ী।

এই নীতির ভিত্তিতে এনইউএস প্রথমে প্রতিটি বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতা আয়ত্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এরপর এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা শুধু কী উত্তর দিচ্ছে, তা নয়; বরং কীভাবে চিন্তা করে সেই উত্তরে পৌঁছাচ্ছে, সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়নপদ্ধতিও নতুন করে সাজানো হচ্ছে।

তান বলেন, শুধু উত্তরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত নয়; মূল্যায়ন করতে হবে চিন্তাপ্রক্রিয়ার ভিত্তিতে। নিজের চিন্তাশক্তির দায়িত্ব অন্যের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়।

মূল্যায়ন পদ্ধতি বদলাচ্ছে লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয়

লন্ডনের কিংস কলেজ লন্ডনও (কেসিএল) এআইয়ের যুগে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নপদ্ধতি নতুন করে ভাবছে। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে এআই ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার ওপর প্রতিষ্ঠানটি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নকল ঠেকাতে এআই ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিবর্তে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠদান ও মূল্যায়নে প্রযুক্তিটি যুক্ত করার উপায় খুঁজছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

কেসিএলের আইন বিভাগে শিক্ষার্থীদের এমন উন্নত এআই সফটওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা আইনজীবী প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে কাজে লাগায়। এতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি এআইয়ের তৈরি কাজের যথার্থতা ও সীমাবদ্ধতা সমালোচনামূলকভাবে যাচাই করতে শিখছে।

কেসিএলের প্রেসিডেন্ট শিতিজ কাপুর মনে করেন, এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে আবার প্রচলিত হাতে লিখে পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া হবে পেছনমুখী সিদ্ধান্ত। কারণ, এ ধরনের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ করার পর যে কর্মপরিবেশে প্রবেশ করতে হবে, তার জন্য খুব বেশি প্রস্তুত নাও করতে পারে।

প্রযুক্তির চেয়ে সামাজিক সমস্যায় গুরুত্ব দিচ্ছে এলএসই

ব্যবসা ও সামাজিক বিজ্ঞানে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও এআই নতুন সুযোগ তৈরি করছে। এসব প্রতিষ্ঠান শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বিভাগ চালু করার পরিবর্তে নিজেদের বিদ্যমান শিক্ষাগত শক্তিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের (এলএসই) প্রেসিডেন্ট ল্যারি ক্রেমারের মতে, এআইয়ের কারণে তৈরি হওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর অনেকই প্রযুক্তিগত নয়; বরং সামাজিক। তিনি বলেন, এআই নিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় বিষয়, চ্যালেঞ্জ এবং সমস্যাগুলোর অনেকই সামাজিক বিজ্ঞানের আওতাভুক্ত।

নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ডিগ্রি কর্মসূচি চালুর পরিবর্তে এলএসই তাদের বিদ্যমান বিষয়গুলোর পাঠ্যক্রমে এআই যুক্ত করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সব শিক্ষার্থীকে অ্যানথ্রপিকের ক্লড এবং সব কর্মীকে মাইক্রোসফটের কোপাইলট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষকদের পাঠদানের কাজ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা এআইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের কোর্স নতুন করে সাজাতে পারেন। অন্য শিক্ষকেরাও যাতে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারেন, সে জন্য এই উদ্যোগের ফলাফল প্রকাশ্যে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে।

সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটিও (এসএমইউ) চার বছর মেয়াদি স্নাতক পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ে এআই যুক্ত করছে। তবে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সমালোচনামূলক চিন্তা ও মানুষের বিচারবোধ বিকাশের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত সমাপনী প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব সমস্যার সমাধানে এআই ব্যবহার করতে শিখছে। একই সঙ্গে এআইয়ের দেওয়া ফলাফল যাচাই ও সেগুলোর যথার্থতা বিচার করার দক্ষতাও অর্জন করছে তারা। এসএমইউর প্রেসিডেন্ট লিলি কং বলেন, বিষয়টি শুধু সঠিক উত্তর খুঁজে বের করার নয়। কারণ, এআই মুহূর্তের মধ্যে অসংখ্য উত্তর দিতে পারে। আসল দক্ষতা হলো সঠিক প্রশ্ন করতে পারা।

এআই বিভাগ সম্প্রসারণে দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এআই সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের মূল লক্ষ্য এখন পর্যন্ত বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম সম্প্রসারণ এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের জন্য আরো বেশি দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা।

এআই, সেমিকন্ডাক্টরসহ উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে ২০২৪ সালের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির আসন চার হাজারের বেশি বাড়ানো হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার দেশটিকে বিশ্বের শীর্ষ তিন এআই শক্তির একটিতে পরিণত করতে চায়।

কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ দেশটির চারটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট আগামী বছর এআই কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সম্মিলিতভাবে আরও ৪০০টি ভর্তির আসন যুক্ত হবে।

সরকারের জোরালো সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এই সম্প্রসারণের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এআই-সম্পর্কিত বিষয়ে ডিগ্রিকে ক্রমেই ভালো কর্মজীবনের সম্ভাবনা তৈরির পথ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিনটি প্রধান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই কলেজ প্রতিষ্ঠায় ৩০ বিলিয়ন ওন বা ২ কোটি ২২৪ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ‘এআই-কেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়কে আট বছর পর্যন্ত বছরে সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ওন করে সহায়তা দিচ্ছে। এ ছাড়া এআই রূপান্তর বা এএক্সে বিশেষায়িত ১৫টি স্নাতকোত্তর প্রতিষ্ঠানকে ছয় বছর পর্যন্ত একই ধরনের বার্ষিক অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে।

দেশটির অন্যতম বড় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতিমূলক প্রতিষ্ঠান জংরো একাডেমির প্রধান লিম সুং-হো বলেন, এআই শিল্প গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ এই খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরো স্পষ্ট করেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন এআই বিভাগ চালু করছে অথবা বিদ্যমান বিভাগ পুনর্গঠন করছে।

স্নাতক শেষে ভালো চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশাও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। চলতি বছরের নিয়মিত ভর্তি প্রক্রিয়ায় দেশটির ২০টি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই-সম্পর্কিত বিভাগগুলোতে আবেদনকারীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য দেশটির চারটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে রেকর্ড ৩৩ হাজার ৩৪৯টি আবেদন জমা পড়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর পেশার প্রতি আগ্রহ বাড়ায় স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের মতো বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষ ডিগ্রি কর্মসূচিতেও প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। এসব কর্মসূচির কয়েকটিতে প্রতি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর অনুপাত মেডিকেল কলেজের চেয়েও বেশি।

শুধু আসন বাড়ালেই হবে না, উপলব্ধি বাড়ছে দক্ষিণ কোরিয়ায়

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় এআই শিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা বাড়ানোর বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষক ও অবকাঠামোর ঘাটতি নিয়ে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্বেগ থাকায় সরকার ২০২৭ সালের জন্য উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে অতিরিক্ত ভর্তির আসন ৪৩৪টিতে সীমিত করেছে।

এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় আরও স্পষ্ট হচ্ছে—এআইয়ের যুগের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে শুধু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না। তবে দেশটির অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখনো নিজেদের স্বতন্ত্র শিক্ষাগত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন পদ্ধতি গড়ে তোলার পরিবর্তে এআই-সম্পর্কিত বিভাগ সম্প্রসারণের একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা বলছে, এআইয়ের যুগে উচ্চশিক্ষার চ্যালেঞ্জ কেবল প্রযুক্তি শেখানো নয়। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব বিষয়ে গভীর জ্ঞান, স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা, সঠিক প্রশ্ন করার দক্ষতা এবং এআইয়ের তৈরি ফলাফল বিচার করার সক্ষমতা গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ, ভবিষ্যতের বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষায় এআই ব্যবহারের দক্ষতার পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব জ্ঞান, বিচারবোধ ও চিন্তাশক্তির বিকাশই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সূত্র: দ্য কোরিয়া টাইমস ও কোরিয়া প্রেস ফাউন্ডেশন

এম/আই

Link copied!