বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

সেই রাতে ব্যবসায়ী নাসিরকে ফাঁসাতে গিয়ে যেভাবে নিজেই ফেঁসে যান পরীমনি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

সেই রাতে ব্যবসায়ী নাসিরকে ফাঁসাতে গিয়ে যেভাবে নিজেই ফেঁসে যান পরীমনি

আলোচিত ও সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন আহমেদের করা মামলায় হাজিরা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন।  আলোচিত এই মামলায় জামিন নিতে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে গেছেন পরীমনি।  

২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

এর আগে ওই বছরের ১৪ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী, শাহ শহিদুল আলমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমনি। 

কিন্তু পরীমনি ওই রাতের ঘটনার যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে তার সেই বক্তব্যের সঙ্গে অনেক কিছুই মিল পাওয়া যায়নি।ফলে ব্যবসায়ী নাসিকে ফাঁসাতে গিয়ে পরীমনি নিজেই ফেঁসে যান! 

এদিকে পাঁচ বছরের বেশি সময় পার হলেও নাসিরের করা মামলাটির চূড়ান্ত রায় এখনো ঘোষণা করেননি আদালত। দীর্ঘ এই সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি আদালতেও নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে পরীমনিকে।  মাদক মামলার অভিযোগ, পাল্টা মামলা, হাজিরা, রিমান্ড ও জামিন মিলিয়ে কয়েক বছর ধরে একাধিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

সেই রাতে বোট ক্লাবে কী ঘটেছিল?

২০২১ সালের ৯ জুন মধ্যরাতে বোট ক্লাবের ওই ঘটনায় বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে ব্যবসায়ী নাসিরের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায় পরীমনিকে। 

ঘটনার চারদিন পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও সংবাদ সম্মেলন করে পরীমনি ওই রাতের ঘটনার যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, এখন তার সেই বক্তব্যের সঙ্গে অনেক কিছুই মিল পাওয়া যায়নি। 

মামলার এজাহারে পরীমনি অভিযোগ করেছিলেন, ঘটনার দিন রাতে নাসির ও অমি মদ্যপান করার জন্য তাকে জোর করেন। মদ পান করতে না চাইলে নাসির জোর করে তার মুখের মধ্যে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন।

তবে নতুন প্রকাশ হওয়া ভিডিওতে সেরকম কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। বরং পরীমনি ক্লাবের ভেতরে সবার সঙ্গে স্বেচ্ছায় মদ্যপান করছেন এমন দৃশ্য উঠে এসেছে। সঙ্গে ছিলেন অমি ও জিমি।

ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, উত্তেজিত পরীমনিকে শান্ত করার চেষ্টা করেন ব্যবসায়ী নাসির। তার জবাবে নাসির মাহমুদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন সমালোচিত এই নায়িকা। উলটো নাসিরকে বেরিয়ে যেতে বলেন তিনি।

এছাড়া বোট ক্লাবের ঘটনার আগের রাতে গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে পরীমনির ভাঙচুর ও বার-কর্মীদের মারধরের ঘটনাটিও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। বনানীর একটি ক্লাবেও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে পরীমনির বিরুদ্ধে।

সবকিছু মিলে পরীমনির অভিযোগগুলো কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এছাড়া প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে পরীমনি ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বরং ক্লাবের স্টাফরা তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, পরীমনি তার সঙ্গীরাসহ রাতে ওই ক্লাবে গিয়ে স্বেচ্ছায় টেবিলে বসে খোশগল্প করতে করতে মদ পান করেন। প্রায় ঘণ্টা খানেক পর একটি ব্লু-লেভেল বিদেশি মদের বোতল নেওয়া নিয়ে সেখানে প্রথমে উচ্চবাচ্য হয়। পরে সেটি হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

তদন্ত সূত্র আরও জানায়, তারা ইতোমধ্যে ওই রাতের ঘটনার সময়ের খণ্ডিত কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে একটিতে খোদ পরীমনি নাসিরকে গালাগাল করছেন এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

২০২৪ সালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন আদালত। একইসঙ্গে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তারা ২৪ সালের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

মামলায় নাসিরউদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমনি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।

এম/আর

Link copied!