ভারতে আদানি গ্রুপের এক বিশাল খনি প্রকল্পের জন্য আদিবাসীদের জায়গা জমি দখলের পেছনে এক ভয়াবহ জালিয়াতির খবর সামনে এসেছে। ওড়িশার কোরাপুট জেলায় একটি বক্সাইট খনি তৈরির জন্য শত শত আদিবাসীর ভুয়া স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দীর্ঘদিন আগে মারা গেছেন এমন ব্যক্তি কিংবা পক্ষাঘাতগ্রস্ত শয্যাশায়ী মানুষের আঙুলের ছাপ নিয়েও এই সম্মতির নথিপত্র সাজানো হয়েছে!
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ও নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গৌতম আদানির মালিকানাধীন ‘কলিঙ্গ অ্যালুমিনা লিমিটেড’ এই ২৪ মিলিয়ন ডলারের খনি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। তবে ভারতের আইন অনুযায়ী, আদিবাসীদের বন বা জমি অন্য কাজে ব্যবহার করতে হলে গ্রামসভার অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষের লিখিত সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
নথিপত্রে দেখানো হয়েছে গ্রামের প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষই আনন্দের সঙ্গে জমি দিতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। স্থানীয় আদিবাসীরা জানান, নথিপত্রে থাকা অধিকাংশ সই ও আঙুলের ছাপ জাল। বলদা গ্রামের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার মা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা গেছেন, অথচ তার আট মাস পর অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে নাকি তার মৃত মা নিজে এসে সই করে গেছেন! ঠিক একইভাবে বছর পাঁচেক ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে থাকা মানুষের আঙুলের ছাপও বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনেকে আবার অভিযোগ করেছেন, সরকারি অন্য একটা কাজের কথা বলে সাদা কাগজে সই নিয়ে পরে তা গোপনে এই খনি প্রকল্পের সম্মতিপত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে স্থানীয় কিছু দালাল। অথচ দুটি গ্রামের প্রধানই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—এমন কোনো বৈধ মিটিং বা সই সংগ্রহের ঘটনা ঘটেনি।
আইন ও প্রশাসনিক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খুব দ্রুততার সাথে আদানির সংস্থাকে বনভূমির মালিকানা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। জমি হারানোর পাশাপাশি নিজেদের পবিত্র পাহাড় ও পরিবেশ ধ্বংসের আশঙ্কায় আদালতের দুয়ারে কড়া নাড়ছেন গ্রামের মানুষ। এ বিষয়ে আল জাজিরার পক্ষ থেকে আদানি গ্রুপ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা মুখ খোলেনি। তবে আদিবাসীরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, জালিয়াতি করে যাই করা হোক না কেন, নিজেদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি আর পবিত্র বন তারা আদানির হাতে তুলে দেবেন না।
