পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং সেবার মান উন্নয়নে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু করেছে সৌদি আরব। তিনটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্মীয় সেবার অর্থায়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গত ২ নভেম্বর মক্কায় নতুন এ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন পবিত্র দুই মসজিদের ধর্মীয় বিষয়ক প্রেসিডেন্ট শায়খ ড. আবদুর রহমান আল-সুদাইস। হিজরি ১৪৪৮ সালের ২২ জমাদিউল আউয়াল তারিখে এ উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।
নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান—রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স এনডাওমেন্ট, মা’আসির আল-হারামাইন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন এবং হিদায়াত আল-কাসিদিন কোম্পানি। প্রতিষ্ঠান তিনটি সমন্বিতভাবে কাজ করে ধর্মীয় সেবার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করা, আর্থিক সম্পদ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
তিন প্রতিষ্ঠানের পৃথক দায়িত্ব
নতুন কাঠামোতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স এনডাওমেন্টের প্রধান কাজ হবে আর্থিক সম্পদ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করবে প্রতিষ্ঠানটি।
মা’আসির আল-হারামাইন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন তহবিল ব্যবস্থাপনা, অনুদান প্রদান এবং বিভিন্ন প্রকল্পের তদারকির দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, হিদায়াত আল-কাসিদিন কোম্পানি বিভিন্ন ধর্মীয় সেবা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সেগুলোর পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। সেবার মান বজায় রাখা এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করাও প্রতিষ্ঠানটির কাজের অংশ।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্য
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শায়খ আল-সুদাইস বলেন, নতুন এ ব্যবস্থা ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য একটি টেকসই ওয়াক্ফভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অলাভজনক ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এর ফলে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়বে এবং পবিত্র দুই মসজিদে আগত মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক সেবার মান উন্নত হবে। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিভিন্ন পরিকল্পনাকে দীর্ঘস্থায়ী প্রকল্পে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে পবিত্র কোরআন শিক্ষার কর্মসূচি, সচেতনতামূলক প্রচার এবং ধর্মীয় দিকনির্দেশনামূলক সেবা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও ক্ষমতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণের পাশাপাশি পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, তদারকি এবং কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
এ ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হবে। নিজস্ব উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
সৌদি আরবের শাসকদের পবিত্র দুই মসজিদের ধর্মীয় সেবার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় নতুন এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এসব সেবার গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) ও দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন
