সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

আদালতে আবু বকর • ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যটি মজা করে লিখেছিলেন

আদালত প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

আদালতে আবু বকর • ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যটি মজা করে লিখেছিলেন

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবির নিচে স্নাইপার ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে মন্তব্য করেছিলেন আবু বকর সিদ্দিক। এ জন্য আদালতে ভুল স্বীকার করে তিনি বলেছেন, মজা করে কথাটি লিখেছিলেন, কাউকে হুমকি দেওয়া বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না।

তবে এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় শুনানি শেষে তার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াছিন পাইক আসামি আবু বকরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। এসময় বিচারক তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মন্তব্যটি মজা করে করেছিলেন বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ভুল হয়েছে বলেও স্বীকার করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ফেসবুকে করা মন্তব্যের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এছাড়া সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

আবু বকরকে গত ২১ অক্টোবর গভীর রাতে রাজশাহীর পবা থানার কচুয়াতৈল এলাকার বাসা থেকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ২৩ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরে যান। শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে রুয়েটের একটি বাসে করে নগরীতে প্রবেশ করেন তিনি। পরে ওই বাসে করেই সমাবেশে যোগ দেন এবং কর্মসূচি শেষে বিমানবন্দরে ফেরেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি দিয়ে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল।’ মন্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. মানিক হোসেন রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

এম/আই

Link copied!