রাজধানীর গুলশানে বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত মদ ও বিয়ার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ওয়্যারহাউজ সিলগালা করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে পণ্যের ছাড়পত্র দেখানো হলেও গুদামে পণ্য না থাকার তথ্য এবং বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) নেতৃত্বে কাস্টমস ইনটেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইআইডি) ও এসআরবির যৌথ দল অভিযান চালায়। পরে ডিএনসির উপস্থিতিতে ওয়্যারহাউজটি সিলগালা করা হয়।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুমোদিত সফটওয়্যার এবং গুদামে থাকা মদের মজুত মিলিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা। এ সময় গুদামে ১৪৪ ক্যান বিয়ার, ১২ বোতল হুইস্কি ও ৬ বোতল নেমিরফ মদ পাওয়া যায়।
তবে সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি ধরা পড়ে হাইনেকেন বিয়ারের একটি চালানে। প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল নথি অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ২৫০ কার্টন হাইনেকেন বিয়ার ওয়্যারহাউজে ‘ইনবাউন্ড’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। কিন্তু তল্লাশি চালিয়ে গুদামে ওই বিয়ারের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ডিএনসি জানিয়েছে, সফটওয়্যারে ‘এক্সবন্ড’ বা ছাড়পত্র পাওয়া দেখানো হলেও বাস্তবে কিছু পণ্য গুদামে মজুত ছিল। এছাড়া চারতলা ভবনের দুটি ফ্লোর কাস্টমসের অনুমোদন ছাড়াই ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে।
টস বন্ড মূলত একটি ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজ। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় মদ ও অ্যালকোহল সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি।
টস বন্ডের পরিচালক হিসেবে ব্যবসায়ী শেখ নূর ইসলামের নাম রয়েছে। তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর। শেখ নূর ইসলামের মালিকানাধীন ‘ফুওয়াং ক্লাব’ ও ‘কয়লা রেস্টুরেন্ট’-এ এর আগেও একাধিকবার মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর তথ্য রয়েছে।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগের সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কানাডা থেকে পাওয়া একটি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে শেখ নূর ইসলাম, তাঁর স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাতেও আলোচনায় আসেন শেখ নূর ইসলাম। গত ২৬ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনায় ফেসবুকে লাইভে সালমান মুক্তাদির ঘটনার জন্য ‘বিএনপির চাঁদাবাজিকে’ দায়ী করেন। পরে অবশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ থেকে সরে আসেন।
এ ঘটনায় করা মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, গত বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
