যশোরের চৌগাছায় গরু চোর সন্দেহে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত মিজানুর রহমান কুষ্টিয়া জেলার লালন শাহ বাজারের পাশে বাটকেমারি গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে ইদ্রিস আলীর বাড়িতে ৩ জনের একটি চোরচক্র প্রবেশ করে। তারা গোয়ালঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা করলে বিষয়টি টের পান বাড়ির মালিক ইদ্রিস আলী। তাঁর চিৎকারে আশপাশের গ্রামবাসী জড়ো হয়ে চোরদের ধাওয়া করে। এ সময় চক্রের অন্য দুই সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মিজানুর রহমানকে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে তিনি গুরুতর আহত হন।
গরুর মালিক ইদ্রিস আলী জানান, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে বাইরে বের হয়ে তিনি গোয়ালঘরে তিনজনকে তালা ভাঙতে দেখেন। তখন চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে ধাওয়া করে একজনকে ধরে ফেলে। তিনি আরও জানান, এক বছর আগেও তাঁর গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি হয়েছিল এবং গত দুই-তিন বছরে এই গ্রাম থেকে অন্তত ১০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুমূর্ষু অবস্থায় মিজানুর রহমানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেজা উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আঘাতের কারণে শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রাম থেকে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
